ফের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২০

ঢাকা : দেশের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ১৪ আগস্টের পর পুনরায় অবনতি শঙ্কার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কেননা, ইতোমধ্যে ব্রহ্মপুত্রসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করেছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ব্ৰহ্মপুত্ৰ-যমুনা নদীর পানি সমতল বাড়ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল কমেছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বাড়ছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

ইতোমধ্যে দেশে এবং দেশের উত্তরে সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের আরও বাড়ার আভাস রয়েছে। মূলত ভারতের বৃষ্টিপাত বাড়ার কারণেই এ বছর ইতোমধ্যে দু’ দফায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশে।

এ অবস্থায় ১০ দিনের পূর্বাভাসে পাউবো জানিয়েছে, ১৪ আগস্টের পরে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর, জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ, টাঙ্গাইল জেলার এলাসিন এবং মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা পয়েন্টে পানি সমতল বাড়তে পারে। বাড়তে পারে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্ট, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকূল পয়েন্ট এবং শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে আগামী ৩ দিন পানি সমতল ক্রমান্বয়ে কমতে পারে এবং তারপর বাড়া শুরু করতে পারে। এর ফলে ১৫ আগস্টের পরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে লক্ষ্যা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তারপর বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী চার দিন জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদী এবং রেকাবি বাজার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তারপর বাড়তে পারে। ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আগামী সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বর্তমানে দেশে পাঁচটি নদীর পানি ছয় পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে গুড় নদীর পানি সিংড়ায়, ধলেশ্বরীর পানি এলাসিনে, তুরাগের পানি মিরপুরে, টঙ্গী খালের পানি টঙ্গীতে, ধলেশ্বরীর পানি জাগিরে এবং পদ্মার পানি গোয়ালন্দে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।