বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সৈয়দ আলম নামে এক ইয়াবা কারবারী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ পিস ইয়াবা, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, শনিবার রাতে দমদমিয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন ১৪ নম্বর ব্রিজের নিকটবর্তী কেয়ারী খাল এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে- এ সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) টহলদল ওই এলাকায় গিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। রাত ১২টার দিকে টহলদল দুইজন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে উক্ত খালের পাড়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখে। কিছুক্ষণ পর টহলদলটি এক জনকে সাতঁরিয়ে (মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে) নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। তিনি খালের মুখে আসার সাথে সাথে অপেক্ষমান দুজন তার দিকে এগিয়ে যায়। ওই সময়ে টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবির উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই তারা খালের আঁড় ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে টহলদল তাদের ধাওয়া করলে সশস্ত্র ইয়াবা কারবারীরা বিজিবি সদস্যদের উপর অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। ফলে দুই জন বিজিবি সদস্য আহত হন।

বিজিবি জানিয়েছে, এ সময় বিজিবির টহলদলটি সরকারী সম্পদ এবং নিজেদের জান ও মাল রক্ষার্থে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন-চার মিনিট গুলি বিনিময় হয়। এ সময় স্থানীয় কিছু কৌতুহলী জনসাধারণ ওই এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করলে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি’র টহলদলটি গুলি করা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই সময়ে কতিপয় ইয়াবা কারবারীরা গুলি করতে করতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে খালের আঁড় ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবি জানিয়েছে, গোলাগুলির শব্দ থামার পর টহলদলের সদস্যরা ওই এলাকা হতে একজন ইয়াবা কারবারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। গুরুতর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে অবস্থানরত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাটি তল্লাশী করে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নিকট থেকে একটি দেশীয় তৈরী অস্ত্র এবং এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।