যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড

শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারির আঘাতে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ভাইরাসটি সেখানে আঘাত হানার পর আবারও একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশটিতে ৫৭ হাজারের বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো একদিনে ৫০ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত করা হলো।

এর আগে বুধবার দেশটিতে ৫১ হাজার করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছে ৪৭ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড সংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও অ্যারিজোনা। এই তিনটি রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রে মহামারির নতুন উপকেন্দ্র হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৮৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৪৮৫ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৯১ জন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সরকারের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি সতর্ক করে বলেছিলেন, খুব শিগগিরই আক্রান্তের সংখ্যা এর দ্বিগুণ হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন সিনেটের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশন বিষয়ক কমিটিকে দেশটির ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব অ্যালার্জি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, “পরিষ্কারভাবে মহামারি এই মূহুর্তে আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, “ভাইরাসের পুনরুত্থান রোধে দেশব্যাপী উদ্যোগ নেয়া না হলে দৈনিক নতুন রোগী বৃদ্ধির সংখ্যা এক লাখে পৌঁছে যেতে পারে। যে এলাকাগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে শুধু সেখানেই মনোযোগ দিলেই হবে না, এটি পুরো দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”

একইসঙ্গে প্রাথমিক তথ্যগুলো আশাজাগানিয়া হওয়া সত্ত্বেও ভ্যাকসিনের কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “আশা করি আগামী বছরের শুরুতে ওষুধ পাওয়া যাবে।”।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুনে টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০টি রাজ্যে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। টেক্সাস ও অ্যারিজোনার কয়েকটি অংশে হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা নেই।

করোনা মহামারির প্রকোপে দেশটির রাজ্যগুলোর ও প্রধান প্রধান শহরগুলোর কর্তৃপক্ষ তাদের বাসিন্দাদের বাড়িতে অবস্থান করার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এ সময় দেশজুড়ে লাখা লাখ লোক চাকরি হারায়। এই পরিস্থিতিতে অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দ্রুত সঙ্কোচন ঘটে যা দ্বিতীয় প্রান্তিকেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।