যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক, ১৫ রাজ্যে সেনা মোতায়েন

মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশের হাতে আফ্রো-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলমান ওই বিক্ষোভ থেকে অন্তত চার হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঁচ হাজার রিজার্ভ সেনা (দ্য ন্যাশনাল গার্ড) মোতায়েন করা হয়েছে। খবর সিএনএন, এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বিবিসি।

এর আগে, বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ শহরে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু কারফিউ অমান্য করেও রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। নিউইয়র্ক, শিকাগো, লস এঞ্জেলেস ও ফিলাডেলফিয়ায় দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল, পিপার বুলেট ছোড়ে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দোকানপাট ভাঙচুর করে।

এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজকে কেন্দ্র করে আবারও জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা একটি চার্চসহ কয়েকটি অবকাঠামোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ তাদেরকে লক্ষ করে টিয়ারশেল ছুড়লে তারা পুলিশকে লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, তাকে নিয়ে হোয়াইট হাউজস্থ একটি বাঙ্কারে অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৭৫ শহরে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভেতর কয়েকদিন আগেও এই শহরগুলো ছিল ধূ ধূ মরুভূমি। কিন্তু পুলিশি নির্যাতন ও বর্ণবাদী আচরণ বিরোধী এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিতে দেখা গেছে।

পাশাপাশি আফ্রো-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনকে গ্রফতার করা হয়েছে এবং সোমবার (১ জুন) আদালতে হাজির করার কথা ছিল।