বাসভাড়া বৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’: বিএনপি

রবিবার, মে ৩১, ২০২০

ঢাকা : করোনা ভাইরাস সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবকে সরকারের ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ নীতি আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই সরকার যে জনগণের প্রতি বৈরী তার প্রমাণ শতকরা ৮০ শতাংশ বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব। এই করোনা পরিস্থতিতে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে এই জন্য বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা-বিআরটিএ। ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ নীতি আওয়ামী লীগের সরকারের প্রতিষ্ঠিত কর্মসূচি। জনগনকে জিম্মি করে রক্তচোষার নীতি এদের একমাত্র চালিকা শক্তি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় দ্বিগুন বাসভাড়া বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় টানা দুই মাসের সরকারি ছুটি শেষে রবিবার থেকে অফিস খোলার পাশাপাশি গণ-পরিবহনও চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। গণপরিবহনে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন ও যাত্রী ভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ। এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের পর সোমবার থেকে বাস-মিনিবাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে মালিকরা।

রিজভী বলেন, ‘করোনার আঘাতে জনজীবন মহাবিপর্যয়ের মধ্যে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যর সংখ্যা এই সপ্তাহের বাঁধভাঙ্গা পানির মতো জনজীবনকে গ্রাস করেছে। দিন আনে দিন খায় মানুষ, দিন মজুর, রিকসাচালকসহ নিম্ন মধ্য বিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ওপর বাস ভাড়া বৃদ্ধি ওই নিম্ন ও বিপন্ন মানুষের ওপর কষাঘাত। স চালুর আগেই বাসভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তেই প্রমাণিত হয় এই সরকার শোষণ ও গরীবকে মারার যন্ত্র।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ত্রাণ নিতে আসার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তার এই বক্তব্য ফরাসী বিপ্লবের সময়ের ষোড়শ লুই এর স্ত্রী কথাই মনে পড়ে যায়-‘রুটি নাই তো কি হয়েছে, কেক খাবে। জনগণের ক্ষুধা, হাহাকার, কর্মহীন আমলে না নিয়ে সারাক্ষন এই সরকার জনগনকে নিয়ে উপহাস করতেই ব্যস্ত।’

বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে ‘গোটা জাতি বিস্মিত ও হতবাক’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন-বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই নাকি ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী নেতার এই বক্তব্য শুনে গোটা জাতি বিস্মিত ও হতবাক। যে বিশেষজ্ঞগণ ‘মৃত্যু-বীজ’ ছড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা কোন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ সেটাই এখন অনুসন্ধানের বিষয়। এরকম বিশেষজ্ঞ ভারতের মতো দেশে পাওয়া গেল না কেন? সেখানে কেন ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ রাখা হয়েছে? বাংলাদেশে হঠাৎ সবকিছু খুলে দিয়ে আমরা এখন এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি।’

রিজভী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএলও’র নির্দেশনা অমান্য এবং করোনা নিয়ে সরকার গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির মতামত সরাসরি অগ্রাহ্য করে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। গণবিরোধী সরকার কখনোই গণমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, কারণ তার সবসময় চিন্তা-বিভ্রাটের মধ্যে থাকে। করোনা বিস্তারের প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে লকডাউন শিথিলের পরিণতি বিভিন্ন দেশে বিপজ্জনক রুপ নিয়েছে। এটি হিতে বিপরীত হয়েছে। অন্যান্য দেশে করোনা কমে আসার পর লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল, কিন্তু তাতে পরিণতি হয়েছে সর্বনাশা বিপর্যয়ের। সেখানে নতুন করে ধেয়ে এসেছে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব।’

‘বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সারা বিশ্বে তুলনায় সর্বনিম্ন। ব্যাঙের প্রতি বাচ্চাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের খেলার মতো বাংলাদেশ সরকার মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যার মধ্যে গত সপ্তাহে ২৬% শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যার মধ্যে গত সপ্তাহে ২৮% শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর ওপর আজ থেকে সবকিছু খুলে দিয়ে সরকারের ইচ্ছা কি সারাদেশকে বধ্যভূমি বানানো?’