বিভেদের রাজনীতি করোনার বন্ধু হিসেবে কাজ করবে: কাদের

শনিবার, মে ৩০, ২০২০

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এ সময় বিভেদের রাজনীতি, করোনা সংক্রমণে করোনার বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। আমাদের মাঝে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আছে, থাকবেই। কিন্তু সবার একথা মনে রাখতে হবে। করোনা আমাদের সকলেরই অভিন্ন শত্রু।’

শনিবার (৩০ মে) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ কঠিন সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। ঢালাও সমালোচনা না করে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংকটে সাহসী কান্ডারী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের সকলের পাশে আছেন। আল্লাহর রহমতে এবং সকলের সহযোগিতায় আমরা এ সংকট থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ্।’

তিনি বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত ২১৫ টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২২ তম সংক্রমণের দেশ হিসেবে এসেছে, বিস্তার বাংলাদেশের ক্রম অবনতিশীল। সামনে কঠিন সময় আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছে। এ কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের চেয়ে খারাপ অবস্থা সত্ত্বেও লকডাউন শিথিল করেছে। কেউ কেউ তুলে নিয়েছে। জীবন রক্ষার পাশাপাশি এ সময় দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। সরকার ছুটির সঙ্গে মিল রেখে বন্ধ থাকায় গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার বা ১জুন থেকে পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আমরা কথা বলেছি। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের সকলকেই সম্মতি দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। সামান্যতম উপেক্ষা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই যে সকল শর্ত বিআরটিএ বা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়েছে। সে সব শর্ত নিজেদের স্বার্থে যথাযথভাবে প্রতিপালনে আমি যাত্রীসাধারণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমূহকে অনুরোধ করছি।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘বাস সমূহে ৫০ ভাগ যাত্রী পরিবহন করা যাবে। অর্থাৎ অর্ধেক সিট খালি রাখতে হবে। যাত্রী উঠানামা সামাজিক গুরুত্ব ও শারীরিক দূরত্বও মেনে চলতে হবে। যাত্রী পরিবহণ শ্রমিক- চালক, হেলপার, যাত্রীসহ সকলকে মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতামূলক। হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহারসহ টার্মিনালে এবং স্টেশনে সাবান ও পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে হাত ধোয়ার জন্য। ট্রীপ চালুর আগে ও পরে যানবাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসকল শর্তাবলী প্রতিপালনের মাধ্যমে কোনও করোনা সংক্রমণ থেকে যানবাহন ও যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে হবে। যে সকল পরিবহন সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমূহকে সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে টার্মিনাল ভিত্তিক মনিটরিং টিম গঠন এবং কাউন্সিলিং করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বিআরটির মোবাইল টিম কার্যকর থাকবে। আমরা চাইনা পরিবহন কিংবা টার্মিনাল করোনা সংক্রমনের কেন্দ্রে পরিণত হোক। আমি টার্মিনাল সমূহের কর্তৃপক্ষের পুরো এলাকা জুড়ে পরিছন্নতা অভিযান তথা জীবাণু মুক্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

পদ্মাসেতু নির্মাণের অগ্রগতি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্যোগ এবং সংকট এর মাঝে মাঝে আপনাদের একটি আনন্দের সংবাদ দিতে চাই। আপনারা জানেন নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। আজ সকালে সেতুর ৩০তম স্প্যান স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর সাড়ে চার চার কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো। আর মাত্র ১১টি স্থাপনের কাজ বাকি। ৩০ জুনের মধ্যে ৩১তম স্থাপনের লক্ষ্যে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। এপ্রিল পর্যন্ত সেতুর অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ, নদী শাসন ৭১ শতাংশ। সার্বিক অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ।’