অনুমোদন নিয়েই ‘মুমূর্ষু রোগী সেজে’ দেশ ছেড়েছেন সিকদারের দুই ছেলে

শনিবার, মে ৩০, ২০২০

ঢাকা : এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে দেশ ছেড়েছেন এক্সিম ব্যাংকের এমডিসহ দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গুলি করার হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার।

মুমূর্ষু রোগী সেজে গেল ২৫ মে তারা নিজেদের মালিকানাধীন আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশনের একটি উড়োজাহাজকে ‘রোগীবাহী’ হিসেবে দেখিয়ে ২৫ মে দুপুরে ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদন নিয়েই দেশ ছেড়েছেন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দুই ভাই।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই বিশেষ বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেন তারা। তবে এসব ফ্লাইটের যাত্রী কারা হবেন, সে বিষয় দেখভাল করে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিকদার গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন আরঅ্যান্ডআর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের মালিকানাধীন বলে জানিয়েছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল-আহসান।

ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল-আহসান জনান, গত ২৫ মে সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে সরকার অনুমোদিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইটটি ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে।

আরঅ্যান্ডআর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের হটলাইন নম্বরে ফোন করা হলে পূর্বে রেকর্ড করা বার্তায় জানানো হয়, তাদের কার্যক্রম এখন স্থগিত রয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে আবার কার্যক্রম শুরু হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি থাইল্যান্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৩ মে সেখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস। ওই দিনই তাদের অনুমোদন দেয়া হলে ঢাকায় অবস্থিত থাই দূতাবাসে একটি চিঠি দেয়া হয়। যেখানে দুই জনকে মেডিকেল ভিসা দেয়ার অনুরোধ করা হয়। ২৪ মে ভিসা ইস্যু করা হয় এবং পরের দিন ২৫ মে তারা ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা দেয় বলেও জানায় ওই সূত্র।

সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে আব্দুল বাছেত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদারকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গুলশান ডিভিশনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা মামলাটির তদন্ত করছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, লোনের জন্য ব্যাংকটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গুলি করার চেষ্টা ও নির্যাতন করেছে এই দুই ভাই।