মাকে সাথে নিয়ে বাবাকে হত্যা করে ছেলে

শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০

খালিদ হাসান,বগুড়া প্রতিনিধি : মাকে সাথে নিয়ে বাবাকে হত্যা করে ছেলে। পরে মৃতদেহ রেললাইনের পাশে পুতে রাখে। শুরু হয় নিখোঁজের গল্প। আর এভাবেই ১১মাস পর বগুড়া সোনাতলায় রেললাইনের ধারে ধানক্ষেতে পুতে রাখা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী-পরকীয়া প্রেমিক, ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের ১১ মাস পর জমিতে পুঁতে রাখা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রানীরপাড়া এলাকায় ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী-পুত্র ও পরকীয়া প্রেমিক তাকে হত্যা করার পর মরদেহ বস্তায় ভরে পুঁতে রাখে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, ২০১৯ সালের জুন মাসে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেহেনা বেগম সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে জানান তার স্বামীকে খুৃঁজে পাচ্ছেন না। থানা পুলিশ প্রায় এক বছর ধরে তদন্ত করেও রফিকুলের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলো না। সাম্প্রতিক তদন্তে জানা যায়, স্ত্রী রেহানা তার পরকীয়া প্রেমিক ও ছেলেকে সাথে নিয়ে রফিকুলকে হত্যার পর তার মরদহ বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, উপজেলার রানীর পাড়া এলাকায় গেলো বছরের জুন মাসে রেহেনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক মহিদুল খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রফিকুলকে। পরে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ি থেকে খানিক দূরে ধানক্ষেতে তাকে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। মরদেহ সরিয়ে ফেলার পরদিন রেহেনা নিজে থানায় গিয়ে তার স্বামী নিখোঁজ হয়েছেন বলে সাধারণ ডায়েরি করেন।

সম্প্রতি ওই ডায়েরির সূত্রে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ রফিকুলের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আটক করা হয় রেহেনা, মহিদুল, রেহেনার ভাগ্নে শাকিল ও ছেলে জসিমকে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রানীর পাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশে তাদের দেখানো ধানক্ষেত থেকে মাটি খুঁড়ে রফিকুলের মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি হত্যামামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।