চাল আত্মসাৎ: চেয়ারম্যানসহ একই ইউপির ৭ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

বুধবার, মে ২০, ২০২০

ঢাকা : ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের অভিযোগে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান ও একই ইউপির ৬ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।

বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৬৬ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল। এদের মধ্যে ২১ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৪২ জন ইউপি সদস্য, ১ জন জেলা পরিষদ সদস্য এবং ২ জন পৌর কাউন্সিলর।

সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত সদস্যরা হলেন- গোপালপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ওবায়দুর রহমান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বাকিয়ার রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম শেখ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রেজাউল করিম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. অলিয়ার রহমান, এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মোসা. স্বপ্না বেগম।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর জেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর প্রদানের নামে অর্থ আদায়, এলজিএসপি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ইউপির ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখিত ৬ সদস্যের নামেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ, ভিজিডির চাল আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। তাদের এই অপরাধমূলক কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।
একইসময় সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না- তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।