ননদের পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে ভাবি, অতঃপর যা হলো

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০

ঢাকা : জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিত লোকজনদেরও আপ্যায়ন করা হচ্ছিল যথারীতি। কিন্তু বর তখনও কনের বাড়িতে এসে পৌঁছেনি। কনেপক্ষের লোকজন বরপক্ষের লোকজনের জন্য অপেক্ষা করছিল। শেষ পর্যন্ত বর এলো। কিন্তু বিয়ের আনন্দে জল ঢেলে দিলেন স্থানীয় প্রশাসন।

গেল সোমবার রাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদুল্যা আকইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ননদের পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে বধূ সেজে বসে পড়েন ভাবি। তাতেও বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হলো না।

আকইপাড় গ্রামের বাবলু মিয়ার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বামনাছড়া রশিদ মার্কেট এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে আল-আমিনের বিয়ে ঠিক হয়।

বিয়ের সব আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়ন যখন ঠিকঠাকভাবেই চলছিল হঠাৎ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান নাইন কবির। তখন কনেপক্ষ তড়িঘড়ি করে কনের পরিবর্তে ছাত্রীর বড় ভাই জয়নালের স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে বধূ সাজিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেন।

কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের চাপে সত্য স্বীকার করেন ফারজানা। মুহূর্তেই বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বরপক্ষ কনের বাড়িতে আসার আগেই সটকে পড়ে।

এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কনের বাবা বাবলু মিয়ার ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বাল্যবিয়ে না দেয়ার শর্তে ছেড়ে দেন।