হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারো অবস্থাই ভালো নয়: রাশেদ

বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

ঢাকা : ডাকসু‌তে হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারো অবস্থা ভালো নেই বলে জানিয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক রাশেদ খান।

বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আহতদের সার্বিক অবস্থা বর্ণনায় একথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ডাকসু ভবনে ভিপি নুর ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে আপনারা জেনেছেন। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার ঘটনায় যারা আইসিইউতে আছেন এবং চিকিৎসাধীন তাদের মধ্যে তুহিন ফরাবি আইসিইউ‌তে ছিলেন। তাকে চিকিৎসকরা মঙ্গলবার বেডে স্থানান্তর করেছিল।

তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার দশটার দিকে আবার তাকে বেড থেকে এইচ ডি ইউ তে নেয়া হয়েছে। তা‌তে প্রমা‌ণিত হয় সে এখ‌নো শংকামুক্ত নয়। আমরা মনে করি, শুধু মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্য তুহিন ফারাবীকে বেডে নেয়া হয়েছিল। তুহিন ফারাবীর সংকটাবস্থা এখনো কাটেনি। তার অবস্থা গুরুতর।

রাশেদ বলেন, আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক এপিএম সোহেলের কাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি হয়। এর আগে তাকে চিকিৎসকরা সিটিস্ক্যান দিয়েছিল। তখন চিকিৎসকরা জানান তার অবস্থা ভালো আছে তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু কাল রাত দশটার দিকে জরুরিভাবে চিকিৎসকরা তাকে অপারেশন থি‌য়েটা‌রে নি‌য়ে যায়। প‌রে দ্রুত অপা‌রেশন করা হয়।

আমরা জানতে পেরেছি, সোহেলের মাথায় প্রচন্ড রকমের আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। অপারেশনের মাধ্যমে যদি তার মাথার রক্ত অপসারণ করা না হতো তাহলে তার জীবন নাশের হুমকি ছিল।

সোহেল এখন আইসিইউতে আছেন। তার জ্ঞান কখনো আসছে আবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। রাশেদ বলেন, আপনারা জানেন, ভিপি হ‌য়েও সে পরপর তিনবার হামলা করা হ‌য়ে‌ছে। এর আগে এমন ঘনটা আর ঘটে‌নি। এটি লজ্জার। তার অবস্থা পূর্বের ন্যায় রয়েছে। তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

নুর মাঝেমধ্যে বমি করছেন। তার হাতে ও কোমরে প্রচন্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছেন রাত্রে ঘুমাতে পারছেন না। সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম। তার দু’চোখে প্রচন্ড রকমের আঘাত করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া তার হাতেও কোমরে প্রচন্ড রকমের আঘাত রয়েছে। সে ঘুমাতে পারছে না। কিছু খেতেও পারছেনা বমি করে ফেলছে।

সংগঠনের ঢাকা কলেজের যুগ্ন আহবায়ক নাজমুল ইসলাম। তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। তার হাত ভে‌ঙে দেয়া হয়েছে। তার অবস্থা এখনো পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যথার যন্ত্রণায় সে ঠিকমত ঘুমাতে পারছে না। আমাদের সহযোদ্ধা মেহেদী হাসান। তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে কিছু খাওয়ানো যাচ্ছেনা। সে কথাও বলতে পারছেনা। তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ফারুক হাসান। তার হাতের একটা শিরা আঘাতে ছি‌ড়ে গেছে। তার বাম কা‌নেও প্রচন্ড আঘাত এর কারনে শুনতে পাচ্ছে না। তার অবস্থাও দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে।

ভিপি নুর এর ছোট ভাই আমিনুল ইসলামের অবস্থাও গুরুতর। সে এখনো পর্যন্ত কথা বলতে পারছে না। কাশতে গেলে তার রক্ত বমি হচ্ছে। তার অবস্থা অবনতির দিকে। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকেও কিভাবে রড দিয়ে নির্মম আঘাত করা হয়েছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।

আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হচ্ছি। কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। নুরুল হক নুর কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দিন নাসিম দেখ‌তে এসেছিলো।

তারা বলেছিলেন, হামলায় জড়িতরা যে মঞ্চেরই হোক না কেন তাদেরকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি মাত্র তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য মূলহোতাদের এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তাদের সে কথার মাধ্যমে আমাদের সাথে ছাত্র সমাজের সাথে প্রহসন করেছেন। যাবতীয় তথ্য প্রমাণ থাকার পরেও অভিযুক্তদের এখনও পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা হয়নি।