সালতামামি

টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ ছিল ঐক্যফ্রন্টের

বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

ঢাকা : ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়। তবে যে লক্ষ্য নিয়ে ফ্রন্ট গঠন করা হয় তা এখনো পূরণ হয়নি। বরং দাবি ও লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ফলাফল প্রত্যাখান করে জোটের সংসদ সদস্যদের এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণে আরো বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে। আর নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্টের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ফ্রন্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, ঐক্যফ্রন্ট কি ভেঙে যাচ্ছে?

এদিকে ফ্রন্ট গঠন থেকে এখন পর্যতন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারি। কারণ ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পেছনে মূল টার্গেট ছিল ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া। কিন্তু বলতে গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে।

এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকবে কি-না তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনে ফ্রন্টের কোনো দাবি মানা হয়নি। এরপরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ফলাফল প্রত্যাখান করেছে। পরে ফ্রন্টের দু’জন এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণের পর দলীয় সিদ্ধান্তেই নির্বাচিতরা এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। তাই এখন প্রশ্ন উঠছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আনার জন্য এবং তাদের বৈধতা দিতেই কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল?

যদিও গত কয়েক মাসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে। আর বর্ষপূতি উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে শোক র‌্যালিও করেছে ফ্রন্ট। তবে সেই র‌্যালি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর গণফোরাম সভাপতি ও ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে বৈঠক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা। এরপরও ফ্রন্ট টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে এবং থাকবে।

জানুয়ারি ৬

গত ৬ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আরেকটা ‘ভালো’ নির্বাচন দিতে সরকারকে বুঝাতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের প্রতি অনুরোধ জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিদর্শনের কর্মসূচি অংশ হিসেবে গত ১৪ জানুয়ারি সিলেটের বালাগঞ্জে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল।

ফেব্রুয়ারি ৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি জোটের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংলাপ ডেকেছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু শেষ পর্যান্ত ওই সংলাপ করতে পারেনি ফ্রন্ট।

এছাড়া গত ২২ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের তথাকথিত নির্বাচনের ওপরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সংসদের তথাকথিত নির্বাচনের ওপরে হলেও সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। গণশুনানিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ৪১ জন প্রার্থী বক্তব্য দেন। এরমধ্যে প্রায় ৩৭ জনই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান এবং কর্মসূচিতে ড. কামাল হোসেনকে রাজপথে চান তারা।

মার্চ ৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর গণফোরাম থেকে মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচিত হন।

এই মাসেই ২২ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ৩ দিনের কর্মসূচি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এপ্রিল ২

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

জুলাই ৮

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের সকল সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গিকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করছে।

সেপ্টেম্বর ৪

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকে গণতন্ত্র, ভোট ডাকাতি, নির্বাচন, তথা-কথিত সংসদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারবিভাগ, দুর্নীতি, অর্থনীতি, রোহিঙ্গা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় কূটনৈতিকদের কাছে তুলে ধরেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তবে ওই বৈঠকে কূটনৈতিকরা কিছু বলেন নাই। তারা শুধু শুনেছেন এবং খাতায় নোট করেন।

অক্টোবর ১৩

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাগরিক শোক র‌্যালি পণ্ড করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওই দিন বিকেল সোয়া ৫টায় প্রেসক্লাব থেকে শোক র‌্যালিটি বের হয়ে কদম ফোয়ারার সামনে এলে পুলিশের সদস্যরা ব্যারিকেট দিয়ে তা আটকে দেয়।

এরআগে ওই দিন বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জমায়েত ও নাগরিক শোক র‌্যালি পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নাগরিক শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি প্রেসক্লাব থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এছাড়া গত ১৮ অক্টোবর বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করতে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।