জঙ্গি হামলায় বুর্কিনা ফাসোতে ১২২ জন নিহত

বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে পৃথক জঙ্গি হামলায় ৭ সৈন্য, ৮০ জঙ্গি এবং ৩৫ বেসামরিক নাগরিকসহ ১২২ জন নিহত হয়েছে। নিহত বেসামরিক নাগরিকদের প্রায় সকলেই নারী। খবর এএফপি।

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) উত্তর সৌম প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং আরবিন্দা শহরে পৃথক জঙ্গি হামলায় সাত সেনা, ৮০ জন জঙ্গি এবং ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক মারা যায়।

মালি ও নাইজারের সীমান্তবর্তী পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি ২০১৫ সালের শুরু থেকে নিয়মিত জঙ্গি হামলার শিকার। ওই সময় থেকে দেশটির সাহেল অঞ্চলে জঙ্গি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যার ফলে শত শত লোক জঙ্গিদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

সেনাবাহিনী প্রধানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জঙ্গিদের একটি বিশাল দল একযোগে উত্তর সৌম প্রদেশের আরবিন্দায় সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক জনপদে আক্রমণ করেছিল।”

দেশটির রাষ্ট্রপতি রোচ মার্ক ক্রিশ্চান কাবোর বলেছেন, বুরকিনা ফাসোতে জঙ্গিদের প্রায় পাঁচ বছরের সহিংসতায় সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা এটি। এ ঘটনায় সমবেদনা জানাতে রাষ্ট্রপতি ৪৮ ঘন্টার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

রাষ্ট্রপতি টুইটারে প্রতিরক্ষা এবং সুরক্ষা বাহিনীর “সাহসিকতা এবং প্রতিশ্রুতি” প্রশংসা করে লিখেছিলেন, “এই বর্বর হামলার ফলে ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী,”

যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র রিমিস দানডজিনো জানিয়েছেন, বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ৩১ জনই নারী ছিলেন।

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কোনও গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে বুর্কিনা ফাসোতে জঙ্গিদেরদের সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয়েছে আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট উভয় গ্রুপের সাথে জড়িত জঙ্গিদের।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বুর্কিনা ফাসোতে জঙ্গি হামলায় ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জঙ্গি হামলাগুলির বেশিরভাগই দেশের উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে ঘটছে, যদিও রাজধানী ওগাডুগুতেও তিনবার আঘাত করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের হামলার আগে বুর্কিনা ফাসোর সেনাবাহিনী বলেছিল যে তারা নভেম্বর থেকে বেশ কয়েকটি অভিযানে প্রায় শতাধিক জঙ্গিকে হত্যা করেছে।

নভেম্বরে একটি কানাডীয় খনি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পরিবহণকারী একটি দলের ওপর হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছিল।