মুসলিমদের বিতাড়িত করতে ষড়যন্ত্র করছে ভারত সরকার: ওয়াইসি

সোমবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সরকার মুসলিমদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয় বরং দেশ থেকে বহিষ্কার করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (এমপি)। শনিবার দিবাগত রাতে হায়দ্রাবাদের দারুসসালামে এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন। এ সময় ওয়াইসি বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের তীব্র সমালোচনা করে ওই আইনকে ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে অভিহিত করেন। সেইসাথে তিনি এই বিল থেকে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু’ শব্দ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

মুসলিমদের অবদান উল্লেখ করে ওয়াইসি বলেন, ‘মুসলিম তারাই যারা ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর হওয়ার পরে যারা ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের নিয়ে সরকার কী করবে? এসকল লোকদের সম্পর্কে সরকারের মনোভাব কী তা জানাক। আসামের এক মন্ত্রী বলেছেন, তিনি মুসলিমদের বহিষ্কার করবেন এবং হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেবেন। এভাবে সরকার নিজেও গুজব ছড়াচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশ বিভাগের সময়, ভারতীয় মুসললিমরা জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বকে অস্বীকার করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিজেপি দেশে কালো আইন এনেছে অভিযোগ করে ওয়াইসি বলেন, এই লড়াই কেবল মুসলিমদের নয় বরং দলিত, তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি জন্যও। তিনি এসময়ে জনগণকে ‘সংবিধান বাঁচাও দিবস’ পালন করার আবেদন জানান।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের ফলে এদেশে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্শিদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য নাগরিকত্ব আইন সংশোধন (সিএবি/ক্যাব) পাস করেছে সরকার। তা এখন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা (সিএএ)-এ পরিণত হয়েছে। ওই আইনে মুসলিমদের কোনো উল্লেখ না থাকায় এবং এভাবে নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বিতর্কিত ওই নাগরিকত্ব বিল আইনে রুপ নেয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষজন ও রাজনৈতিক দল। গত কিছুদিন ধরে চলা আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এপর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশেই গত শুক্রবার ও শনিবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ তে পৌঁছেছে। এদের প্রায় সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের পুলিশ।