ভিপি নুরের ওপর হামলায় বিব্রত সাবেক ভিপি তোফায়েল

সোমবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিব্রত এবং লজ্জিত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ছাত্র রাজনীতি সম্বন্ধে কোন বক্তব্য দিতে গেলে আমি বিব্রত বোধ করি। আমাদের সময়ে মতের ভিন্নতা ছিলো, যেমন ১৯৬৯ সালে আমরা সর্বদলীয় ছাত্রসমাজ গঠন করেছিলাম। আমাকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে আহ্বায়ক করা হয়েছিলো। ছাত্রলীগের মতিয়া গ্রুপ, ছাত্রলীগের মেনন গ্রুপ, জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একটা অংশ সেখানে ছিলো। আমাদের তো আদর্শের ভিন্নতা ছিলো, এক আদর্শ ছিলো না। কিন্তু আমরা ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ১৯৬৯ এ আন্দোলন করেছিলাম।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, সমস্ত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ ছিলো। আজ দুর্ভাগ্য যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, আমি খুবই দুঃখিত, বিব্রত এবং লজ্জিত। এ সম্বন্ধে বলার আমার কিছু নেই। কিন্তু আমি আমার অতীতের স্মৃতির পাতায় প্রবেশ করি সেই দিন গুলির কথা যখন আমি মনে করি, জীবনের সেই সোনালী দিন; আমি ব্যথিত-লজ্জিত, এর বেশি আমার কিছু বলার নেই।

ডাকসু ভিপি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, যারা ডাকসু’র ভিপি হয় তাদেরও সতর্কতার সঙ্গে চলা উচিত, কথা বলা উচিত। এমন কিছু করা উচিত নয়, যেটাতে প্রতিপক্ষের মনে আঘাত লাগতে পারে। ডাকসু আমাদের সকলের। আমাকে কেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক করা হয়েছিলো? কারণ ডকসু হচ্ছে সকলের।

আওয়মী লীগের বর্ষীয়ান এ নেতা বিভিন্ন উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি যেমন এখন ভোলার নির্বাচিত এমপি, ভোলার সকল লোক আমার লোক, দল যার যার তার তার; কিন্তু সামাজিক ভাবে আমরা সবাই এক। ডাকসুর ভিপি যিনি আছেন এবং কমিটিতে যারা আছেন তাদের সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। অতিমাত্রায় পলিটিক্স নিয়ে আসলে এ ধরনের হানা হানি হবেই। সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

গতকাল রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুপুর ১টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে নুরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অন্তত পক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে নুরের ওপর হামলার খবরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরাও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ডাকসু ভবনের সামনে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এরইমধ্যে হামলায় আহত ডাকসু ভিপি নুরসহ আহতের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভিপি নুর ও তার অনুসারীরা দুপুরে ডাকসু ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ডাকসু ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। একই সময়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের ওপর হামলে পড়েন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ভিপি নুরসহ অনেকেই তার হামলায় আহত হন। পরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একজন নেতা বলেন, ‘আমাদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। ভিপি নুর আহত হয়েছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান আল মামুনের পা ভেঙে গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।’

ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমও উপস্থিত আছেন। ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যরা ডাকসু ভবনে এসেছে। তবে তারা আমাদের এ বিষয়ে কিছু অবহিত করেনি। ডাকসু ভবনের সামনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বহিরাগত কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

আসন্ন ঢাকার সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কাকে নৌকায় মনোনয়ন দেওয়া হবে জানতে চাইলে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এ সদস্য বলেন, এখনও সময় আছে, এখনই বলতে পারবো না। আগে আমাদের দলের সভাপতি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।