নওফেল বাদ পড়ায় হতাশ মহিউদ্দিন অনুসারীরা

সোমবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

চট্টগ্রাম: আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে এবার চট্টগ্রাম থেকে দুজন বাদ পড়েছেন। আর পদোন্নতি হয়েছে দুজনের। এর মধ্যে ড. হাছান মাহমুদ প্রচার সম্পাদক থেকে যুগ্ম সম্পাদক এবং ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপ-দপ্তর সম্পাদক থেকে হয়েছেন দপ্তর সম্পাদক। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেই রয়েছেন। বাদ পড়েছেন আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নওফেল বাদ পড়াতে চট্টগ্রামে তার অনুসারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই দু-ধারায় বিভক্ত। এর মধ্যে বড় একটি গ্রুপের দীর্ঘসময় নেতৃত্ব দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর অলিখিতভাবেই নেতৃত্ব চলে আসে তার ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাঁধে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নওফেল কোতোয়ালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চট্টগ্রামে নিজ অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেন। পরবর্তীতে শিক্ষা উপমন্ত্রীও হন। নিয়মিত

হন চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে। তিনি চট্টগ্রাম বিজয়মেলার সভাপতিও হন, দীর্ঘদিন সেই চেয়ারে ছিলেন তার বাবা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বলয় বড় করারও চেষ্টা চালান নওফেল। কিন্তু আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ হারানো তার অনুসারীদের কাছে একটি বিশাল ধাক্কা।

জানতে চাইলে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবুল হাসনাত বেলাল বলেন, ‘দলের যে কমিটি হয়েছে, তাতে প্রাথমিকভাবে আমরা কিছুটা হতাশতো বটেই। চট্টগ্রামে ভোটের রাজনীতির প্রায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে মহিউদ্দিন অনুসারীরা। কাজেই নির্বাচন চিন্তা করলে অনিবার্যভাবেই তাদের মাথায় রাখতে হবে। বিষয়টি বাদ দিলে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যালেন্স থাকবে না।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক বলেন, ‘এখন আমাদের একমাত্র ভরসা সভানেত্রীর ওপর। চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে লাখ লাখ মানুষের আবেগ জড়িত। আমরা আশা করব, অন্তত তার কারণে হলেও

তার উত্তর প্রজন্মের প্রতি নেত্রী সহানুভূতিশীল হবেন। তবে কয়েকটি পদ খালি আছে। তাই আমরা এখনো পুরোপুরি হতাশ হয়ে যাইনি।’

এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাকি আছে। আবার মন্ত্রিসভায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। নওফেলের অনুসারীরা দুইদিকেই চোখ রাখতে চান। তারা বলছেন, এখনো সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান অবশ্য বলেন, ‘নওফেল ও চট্টগ্রামের জন্য যেটি সঠিক নিশ্চয়ই নেত্রী সে সিদ্ধান্তই নেবেন।’