মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য আজ অনুপস্থিত : আমীর খসরু

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ১৯৭১ সালে যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকারসহ, আইনের শাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায় বিচার সবকিছু অনুপস্থিত। আজকে মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ভোটাধিকারসহ সবকিছু যেহেতু কেড়ে নেয়া হয়েছে তাহলে বাংলাদেশে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ যে কারণে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি তার সবকিছু যেহেতু কেড়ে নেয়া হয়েছে তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, আমার আপনার বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাকে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ডঃ কাজী মনিরুজ্জামান মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ,বিলকিস ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল কারণ ছিল গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্রের বাহক হচ্ছে নির্বাচন যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দলটিকে নির্বাচিত করেন তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। পাকিস্তান আমলে যেটা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত হয়েছিল কিন্তু পাকিস্তানিরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি। তারা নির্বাচনের যে বাহক তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার প্রতিবাদে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি যুদ্ধে নেমেছিল। সেদিন ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো বাকস্বাধীনতা, ব্যাক্তিস্বাধীনতা, আইনের শাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায় বিচার। কিন্তু বাংলাদেশ আজ এসব অনুপস্থিত। তাই আমাদের এসব অধিকার ফিরিয়ে আনতে একটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে এবং সেই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি জেলে বসে আছেন জেলে বসেও তাদের (সরকারের) ভয় শেষ হচ্ছে না।

এই বিএনপি নেতা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রতিটা মানুষ যারা জীবন দিয়েছেন আমরা প্রতিটি মানুষের নাম জানতে চাই। এই সম্পূর্ণ তালিকা দেশের মানুষ, এলাকার মানুষ জানতে চায়। বিএনপি’র পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বিএনপি যেদিন ক্ষমতায় আসবে সেদিন যারা এদেশের জন্য জীবনের মূল্য ত্যাগ করে প্রাণ দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের তালিকা বিএনপি প্রণয়ন করবে। তাদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রতিটি এলাকায় স্তম্ভের মধ্যে তাদের নাম লেখা হবে। কিন্তু সরকার এই কাজটি করতে কেন এত দ্বিধাগ্রস্ত তা আমরা জানিনা।

তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করতে বলার কারণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এজন্য আমরা তালিকা প্রকাশ করব সরকার যদি না করে বিএনপি সেটা করবে। তারা এই তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে কারণটা কি সেটাও কিন্তু স্পষ্ট ভাবে বলছে না। আমরা জানতে চাই তারা যদি এটা করতে না চায় তাহলে দেশবাসীকে বল আমরা এটা করব না এবং কি কি কারণে প্রকাশ করবেন না সেটা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার করা হোক। কিন্তু বিএনপি অবশ্যই দেশের জনগণের কাছে এই তালিকা প্রকাশ করবে।