কোন পথে হাঁটছে ভারত, ভবিষ্যত কী?

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক: বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভে লাগাম টানতে রাজধানী দিল্লি, কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে কারফিউ জারি করেছে সরকার। কিন্তু ১৪৪ ধারা ভেঙে, পুলিশি বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভে শামিল হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। তাতে করে প্রতিদিনই বাড়ছে জ্বালাও-পোড়াও ও ধরপাকড়ের ঘটনা।

নতুন এ আইন ভারতে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রতি তাকে ধ্বংস করে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আবার ঐতিহাসিকভাবে ভারতের গায়ে যে উদার বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যে তকমা লেগে আছে সেটিও খসে পড়ছে মুসলিমবিরোধী এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতারাও। এমনকি সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীরাও কথা বলছেন প্রতিদিন।

তবে এখন পযন্ত সরকারের কোনও টনক নড়ছে না। প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাস, গাড়ি ও পুলিশ পোস্ট জ্বালিয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবারও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে দুজন ও উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ে একজন নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের দমনে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, পাটনা, কর্ণাটকসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সহিংসতার মাত্রা প্রতিদিনই মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই আসামের নাগরিক পঞ্জিকে কেন্দ্র করে চলমান এই বিক্ষোভ দানা বাঁধে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের মহাবিস্ফোরণ ঘটে। আসামি নাগরিক তালিকায় বাদ পড়ে অন্তত ২০ লাখ মানুষ। যাদের বেশিরভাগই মুসলমান। কিছু হিন্দুর নামও সে তালিকায় ছিল।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার এনআরসি সংশোধন করে নতুন আইনে বলেছে, যেসব হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা পার্সি ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে, সরকার তাদের নাগরিকত্ব দেবে। তবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে না মুসলমানরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের মোট ২০ কোটি মুসলমানকে উস্কে দেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে। একইসঙ্গে মুসলিমদের কোণঠাসা করতে মোদী সরকারের যে ‘মাস্টারপ্ল্যান’, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন কিংবা আসামের নাগরিক পঞ্জি তারই অংশ।

দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের যথেষ্ট আধিপত্য রয়েছে। সব ধর্মের মানুষের একত্র বসবাসের বড় ভূমি বলা হয়ে থাকে ভারতকে। মাঝেমধ্যে ধর্মতন্ত্রী সুবিধাবাদী গোষ্ঠী কিছু সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ালেও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতিও উদাহরণযোগ্য।

এমনতাবস্থায় ভারত সরকার যদি এনআরসি কিংবা নাগরিকত্ব আইন সংশোধন চূড়ান্তভাবে কার্যকর করে তাহলে শুধু ভারতই নয়, এর পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িত্ব সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। যা গোটা উপমহাদেশে নতুন করে ধর্মভিত্তিক বিভাজন টেকে আনতে পারে। ভারতের মতো একটি মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল রাষ্ট্র মুসলিমবিরোধী এমন পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রগতির ধারায় পশ্চাৎমুখে পড়তে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।