৩ বছরে যা যা করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটি

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল। ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করবে দলের কাউন্সিলরা। আওয়ামী লীগের কার্যনিবার্হী কমিটির বাহিরেও ১৯টি বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি রয়েছে। এই উপকমিটিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটি। এই উপকমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. হোসেন মনসুর এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সুবর। ২০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রথমবারের মত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দল ও সরকারের জন্য কাজ করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটি গঠন করার পর থেকেই তাদের কার্যক্রম ছিলো চোখে পড়ার মত। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির উল্লেখযোগ্য কাজগুলো ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

দলীয় কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখতে তৃণমূল পর্যন্ত কাজ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটি। এই উপকমিটি গঠনের পর থেকে ১৬ টি আনুষ্ঠানিক সাধারণ সভা করে। এই সভায় নির্ধারণ হয় কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটি প্রথম রাজধানীর বাহিরে কার্যক্রম শুরু করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি এ পর্যন্ত ৫টি বিভাগীয় কর্মশালার আয়োজন করে। যার মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকা এবং খুলনায় কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শীর্ষক কর্মশালা, ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ভবনের কর্মদক্ষতা ভিত্তিক অগ্নিসুরক্ষা : বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক কর্মশালা এবং রাজশাহীতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল নিরাপত্তা শীর্ষক কর্মশালা।

এই উপকমিটি ৭টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার করে। এগুলো হলো, ইনোভেশন এন্ড কমিইনিকেশন ইন দ্যা ফোর্থ ইন্ডাসস্ট্রিয়াল রেভ্যুউলেশন : বাংলাদেশ প্রাসপেকটিভ, এ্যাডুকেশন সিস্টেম ফর দ্যা ফোর্থ ইন্ডাসস্ট্রিয়াল রেভ্যুউলেশন, স্মার্ট সিটি ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ, কোল পাওয়ার: প্রসপেক্টস্ এন্ড চ্যালেঞ্জেজেস্, নিউক্লিয়ার পাওয়ার: ফম বঙ্গবন্ধু টু জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাইবার সিকিউরিটি : বাংলাদেশ প্রাসপেকটিভ, কমিউনিটি, দ্যা পদ্মা ব্রিজ এন্ড দ্যা লিডার অব দ্যা নেশন অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা।

এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচানের সময় গুজব প্রতিরোধ, আপপ্রচার রোধ, দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিরোধীদলীয় অপপ্রচার এর জবাব দিতে তৈরি করে, ‘জয় বাংলা’ অ্যাপ। যা বাংলাদেশে আর কোনও রাজনৈতিক দল এখনও করতে পারেনি। এই অ্যাপের মাধ্যমে এক ক্লিক এ যেকোন তথ্য পৌঁছে ১ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে। এছাড়াও দলীয় এবং সরকারের কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে।

সার্বক্ষণিক দলীয় প্রচার, গবেষণা এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে দলের সন্নিকটে আনতে গঠন করে রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইং (আরএনডি)। আরএনডি’র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যেন কোনও ধরনের গুজব এবং অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়লে তার জবাব দেয়া যায়। এছাড়া যুবসমাজ ও নারীদের দলে আনতে কাজ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় আসার পরে জনগণের নিকট সকল সুযোগ সুবিধা খুব সহজে পৌঁছে দিতে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের প্রান্তি জনগণের নিকট তথ্য-প্রযুক্তিসহ শহরের সকল সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেয়া এই কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য। আর এই ধারাবাহিকতায় আমার সারা দেশে সারা বছর আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমার তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বিএনপি-জামায়াত গুজব ছড়িয়ে দেশের শান্তি নষ্ট করতে চেয়েছে। আমার এসব গুজবের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষে দিয়েছি। আমাদের কয়েকটি টিম ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে রাখছে। আর সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো জনগণের নিকট তুলে ধরছে। আবার গুজবের বিরুদ্ধেও কাজ করছে।’