রাজাকারের দল ক্ষমতায়, তাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র: সোহেল

বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা : রাজাকারের দল ক্ষমতা দখল করে আছে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘অনতিবিলম্বে রাজাকারের দলকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। রাজাকারদের হাতে ক্ষমতা দেশের মানুষ দেখতে চায় না। রাজাকারদের বলতে চাই- অনতিবিলম্বে স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। আর যদি মুক্তি না দেন জাতি কিন্তু আরও একটি মুক্তিযুদ্ধের প্রসব যন্ত্রণায় আছে। আর একটি মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু সামনে।’

এসময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা প্রস্তুত হচ্ছেন। রাজাকারদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনে আরও একটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্ত করে আনবো ইনশাল্লাহ। লড়াই হবে, মুক্তিযুদ্ধ হবে, আরেকবার বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায়, মহানগরের রাস্তায় রাস্তায়, জেলার রাস্তায় রাস্তায়, গ্রামে গ্রামে মেঠো পথে, লড়াই হবে মুক্তিযোদ্ধা বনাম ঐ রাজাকারদের সাথে যারা এখন জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তাদের সাথে।’

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সোহেল বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেই জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরদবস্তি করে কারাগারে রেখেছেন কারা? উনারাও (আ.লীগ) মুক্তিযোদ্ধা? উনারা কোথায় যুদ্ধ করেছেন? ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের মধ্যে উনারা যুদ্ধ করেছেন। উনারা দেশকে অসহায় অবস্থায় রেখে কেউ পালিয়ে গেলেন, কেউ ভারতে কেউ পাকিস্তানে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পালিয়ে যাননি।’

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার প্রসঙ্গে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘রাজাকারের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সত্য একসময় উদ্ভাসিত হবেই। তালিকায় আওয়ামী লীগের সংখ্যা ৮ হাজার ৬০ জন, পক্ষান্তরে জোরদবস্তি করে বিএনপি নেতাদের নাম দিয়েছেন এক হাজার ২৪ জন।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজিএম শামছুল হক প্রমুখ।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সঞ্চালনায় অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।