রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্যের নাম!

বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা : সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকারের প্রথম ধাপের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামও চলে আসায় এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে বেরিয়ে এলো আরও এক বড় ধরনের অসঙ্গতি।

রাজাকারের তালিকতায় এসেছে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী শাহজাদা আবদুল মালেক খানের নাম। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গঠিত মন্ত্রিসভার শিল্পপ্রতিমন্ত্রী। সেইসঙ্গে ছিলেন বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার বাকশালের গভর্নর।

তালিকায় প্রকাশিত ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ১৯৭২ সালের ১৯ জুলাই দায়েরকৃত মামলায় তার নাম আছে ৭৫ নম্বরে। মামলা নম্বর-৪৪। মালেক খানের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামে। তার বাবা আলী আবদুল্লাহ খান অবিভক্ত বাংলার পটুয়াখালী মহকুমার নির্বাচিত এমএলএ ছিলেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাথরঘাটা–বরগুনা আসন থেকে শাহজাদা আবদুল মালেক খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে অসহযোগ আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা ও কাঁঠালিয়া থানার নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর মুজিবনগরের অস্থায়ী সরকারের অধীনে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমানের মন্ত্রিপরিষদের শিল্প প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের ১ এপ্রিল তিনি মারা যান।

রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ আবদুর রশিদ মিয়া জানান, মালেক খান ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ নেতা। রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসাটা দুঃখজনক। শাহজাদা মালেক খানের ছেলে মন্টি খান জানিয়েছেন, তার বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় তিনি বিস্মিত।