রাজাকারের তালিকার বাবার নাম, প্রতিবাদে ছেলের সংবাদ সম্মেলন

বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

বরিশাল : সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকার বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছেলে গৌতম চন্দ্র পাল। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী গৌতম চন্দ্র পাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বিশেষ শাখা বরিশাল সদর (দক্ষিণ) এর ২৬ নং ক্রমিকে (26.Babuganj, P.S. Case No-.3, Dt.17.02.72)বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার (হাল থানা- বিমানবন্দর)পূর্ব রহমতপুরের ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন এলাকার মৃ্ত নকুল চন্দ্র পালের ছেলে ও আমার বাবা মৃত মৃত বিমল কৃষ্ণ পালের নাম দুরভিসন্ধি মূলক ভাবনার আলাকে অন্যায় ভাবে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশিত হয়। ছেলে হয়ে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আমি অনুমান করি যাদের সাথে আমার কোটি কোটি টাকার সম্পাত্তি নিয়ে বিরোধ, মামলা, মোকাদ্দমা চলছে তাদের প্ররোচনায় আমার বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ওই তালিকায়। তিনি বলেন, কারন উক্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা গেলে আমাদেরসম্পদ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে-যাহা তাদের অবৈধ দখলদারিত্ব আরও মজবুত করবে।

তিনি বলেন, আমার ঠাকুর দাদা নকুল চন্দ্র পালকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে র নিজ বাড়ীর সামনে পাক হানাদার বাহিনী নির্মম ভাবে হত্যা করে তার লাশ পাশের খালে ফেলে দেয় এবং আমাদের বাড়ির কতিপয় ঘরে অগ্নিসংযোগ করে ও অবশিষ্ট ঘর ভেঙ্গে পাকবাহিনীর গাড়িতে করে বরিশাল নিয়ে যায়। ওইসময় আমার বাবা ক্যাডেট কলেজের নিকটবর্তী কালভার্টের ওপর বেইজ কমান্ডার আব্দুল ওহাব খানের উপস্থিতিতে একযাগে আক্রমন করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

যা ঘটনার সাক্ষী আমার মা বকুল রানী পাল ও দিদি লীলা রানি দত্তসহ পরিবারের সদস্যরা। এরুপ হত্যার কারনে যেখানে আমাদের শহীদের পরিবারের মর্যাদা লাভ করার কথা সেখানে উল্টো তার পূত্র তথা আমার বাবা বিমল কৃষ্ণ পালের নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং অত্রাঞ্চলের বেইজ কমান্ডার আ্দুল ওহান খানের সার্বক্ষনিক যুদ্ধসহচর। স্বাধীনতা যুদ্ধে চলাকালীন সময়ে আমাদের ০৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার আব্দুল ওহাব খানের ইচ্ছাতেই প্রথমে ছাতিয়ার সৈজদ্দিন হাওলাদারের বাড়ী এবং পরবর্তীতে তারই শ্বশুর লাকুটিয়ার মোঃ হোসেন দারোগার বাড়ীতে অবস্থান করে।

তিনি বলেন, গত ১৫ (পনের) বছর যাবৎ আমি অষ্ট্রেলিয়ায় প্রবাসি জীবন যাপন করে আসছি। সদ্য প্রকাশিত উতক্ত তালিকায় আমার বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করার কারণে সামাজিক ভাবে চরম অপমানিত বোধ করছি এবং সাথে সাথে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। কারন স্বার্থন্বেসী মহল উক্ত বিষয়কে পুজি করে আমাদের উপর কোন প্রকার ধ্বংসাতাক কার্যক্রম শুর করতে পারে।

এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা বাতিল পূর্বক এই সম্মান হানিকর কর্মকান্ডের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে উক্ত তালিকা প্রস্তুতের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং রাজাকারের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করে সম্মানীত লোকের সম্মান অটুট রাখা যায় তার সুব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।