অমিত শাহ কী আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ? প্রশ্ন গয়েশ্বরের

বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা : অমিত শাহ কী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আওয়ামী লীগ যে ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলে সেই ভাষায় অমিত শাহ তাদের পার্লামেন্টে কথা বলেছেন। আমি আপনাকে (অমিত) বলবো ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এসে জরিপ করেন। হিন্দুদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির ৯০ শতাংশ আওয়ামী লীগের দখলে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পতির ১০ শতাংশও পাওয়া যাবে না সিএস রেকর্ডে নাম আছে।

রাজাকারের তালিকা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আপনারা রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করলেন সেখানে দেখা গেছে আপনাদেরই লোক ৮ হাজারের ওপরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই তিনিও রাজাকারের তালিকায় আছেন। শেখ মুজিবের চাচা যিনি পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন…।

তিনি বলেন, আজকে রাজাকারদের তালিকায় আমরা দেখি সবচেয়ে বেশি রাজাকার গোপালগঞ্জে। পারিবারিকভাবে যদি দেখি তাহলে বেশি রাজাকার হলো শেখ মুজিবের বংশে। এতো চেষ্টা করেও জিয়াউর রহমানের পারিবারের কেউ রাজাকারের তালিকায় আসে নাই। এটা আমি সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বলছি এটি আমার ব্যক্তিগত তথ্য নয় বলে উল্লেত করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি আরও বলেন, আজকে ভারতের এনআরসি নিয়ে সারা ভারত উত্তপ্ত, কিন্তু আমরা চুপচাপ। আজকে তারা যদি এ আইন বাস্তবায়ন করতে পারে; আক্রমণটা কাদের ওপর হবে? বাংলাদেশের উপর।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অস্বীকার করছে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, মিয়ানমার থেকে যাদের পাঠানো হয়েছে মিয়ানমার তাদের স্বীকার করছে না। তারা বলছে এরা বাংলাদেশি। একইভাবে এনআরসি ভারতীয় নাগরিকদের স্বীকার করতে চায় না। এরাও বলবে তারা বাংলাদেশি নাগরিক। দুটি পদক্ষেপই বাংলাদেশের বিপক্ষে।

তিনি বলেন, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ভারতীয় সরকারের মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদরা যে কথা বলছেন সেই একই কথা বলছে বাংলাদেশ সরকার। সব বিষয় কোন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হয় না। কোন দেশের কোন সিদ্ধান্ত যদি অপর দেশের জাতীয় স্বার্থে আঘাত করে তবে সেটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে ধামাচাপা দেওয়া যায় না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকে, স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে সকল স্তরে জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা বলছে স্বাধীনতা রক্ষার কথা। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা, সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। আমরা আদৌ সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলাম না।

তিনি বলেন, আমরা একের পর এক কথা বলছি কিন্তু এ ভোট চোরর সরকার তার কাজ সে করে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ছোট ছোট টোকাই ধরে আসল দুর্নীতিবাজদের আড়াল করে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবীব উন নবী খান সোহেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজিএম শামছুল হক প্রমুখ।

এ ছাড়া অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম।