ভারতের আত্মায় আঘাত করেছে বিজেপি: প্রিয়াংকা

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মুখে আবারও ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এক হাত নিলেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী।

গতকাল সোমবার দুই ঘণ্টার প্রতীকী ধরনায় বসে সাংবাদিকদের প্রিয়াংকা বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শিক্ষার্থীদের মারতে বিশ্ববিদ্যালয়েও ঢুকে পড়েছে পুলিশ। সংবিধানকে লঙ্ঘন করছে সরকার। ভারতের আত্মায় আঘাত করেছে বিজেপি।’

ভারতের যুবাদের দেশের আত্মা বলে উল্লেখ করে প্রিয়াংকা বলেন, ‘একদিন বিজেপিকে ভারতের যুবাদের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।’

এসময় প্রিয়াংকার সঙ্গে ধরনায় বসেন আহমেদ পাটেল, কেসি বেনুগোপাল, সুস্মিতা দেবসহ কংগ্রেসের কয়েকশো নেতাকর্মী।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতে। আসাম থেকে শুরু কলে দিল্লি পর্যন্ত গণআন্দোলনের ঢেউ লেগেছে। পথে পথে শহরে শহরে আগুন জ্বলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া সংলগ্ন নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এর পরই দিল্লি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। অতর্কিত এই হামলায় বহু ছাত্রছাত্রী আহত হয়। তিনটি বাসে আগুন দেয়া হয়, গাড়ি ভাঙচুর হয়। শতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এরই প্রতিবাদে দিল্লির পুলিশ হেডকোয়ার্টাস রাতভর ঘিরে রাখে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

ওই রাতেই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইটে লিখেন- ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ। যখন মানুষের কথা শোনা উচিত সরকারের, তখন তা না করে উল্টো বিজেপি সরকার সারা দেশে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই সরকার কাপুরুষ। #লজ্জা। শুনে নিন মোদী সাহেব, এরা ভারতীয় যুবা, আজ নয় কাল- এদের কথা আপনাকে শুনতেই হবে।’

এদিকে প্রিয়াংকার অবস্থানকে কংগ্রেসের স্বার্থসিদ্ধির কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতারা। ক্ষমতাসীনদের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অভিযোগ করে বলেন, ‘কংগ্রেস আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ফায়দা নিতে চাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্ররোচনা দিচ্ছে, উস্কে দিচ্ছে।’