নেতাকর্মীদের ‘কঠোর আন্দোলনের’ প্রস্তুত হওয়ার আহবান মোশাররফের

রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

ঢাকা: নেতাকর্মীদের কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা আর কখনও আশা করি না। আমরা বিশ্বাস করি কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে এবং মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে না।’

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছাড়া এদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। দেশ আজ সামাজিক ভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মানুষ চিন্তিত। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশের এরকম অবস্থা আর হয়নি।’

‘আজ আমাদের অর্থনীতির ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, প্রায় ৯টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। চাপাবাজি করে এগুলোকে জনগণ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়, সামাজিক ন্যায় বিচার ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। দেশে আইন নেই, আইনের শাসন নেই। দলীয়করণের কারণে বিচার ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে এই সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে শুধুমাত্র গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য। দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে নিম্ন আদালতেই বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেতেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে। আর এই সরকার গণতন্ত্রের বিপক্ষে। তাই এই দেশে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসন বজায় রাখার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। বিচার বিভাগকে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক ঠেকিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রেখেছে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান নির্দোষ থাকার কারণে নিম্ন আদালতের বিচারক তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। সেই কারণে সেই বিচারককে বাংলাদেশ থেকে জীবন নিয়ে পালাতে হয়েছে। এই পরিবেশ সৃষ্টি করে এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা দেখছি, আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের পার্লামেন্টে মিথ্যা ভাবে উপস্থাপিত করে বাংলাদেশকে হেয়পতিপন্ন করা হচ্ছে। আজকে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির এতই নতজানু যে, এতই মেরুদণ্ডহীন যে তারা প্রতিবাদ করতে পারছে না। তাই সবকিছু থেকে একটি সমাধান আমাদের খুঁজতে হবে। অত্যাচার, অনাচার গুম-খুনসহ সকল কিছুর জন্য যারা দায়ী সেই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।