নাগরিকত্ব ইস্যু: ভারতকে কড়া বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখেও বহু বিতর্কিত ‘নাগরিকত্ব সংশোধন বিল-ক্যাব’ পাসও হওয়ার পরই রাজপথে আগুন জ্বলছে ভারতজুড়ে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির এমন সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনও।

এবার সংখ্যালঘু ‘মুসলিমবিরোধী’ এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় মোদী সরকারকে সচেষ্ট হওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মার্কিন দফতরের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) এখবর দিয়েছে ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম।

মোদী সরকারের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ঘিরে কী কী ঘটছে, সে দিকে নজর রেখেছি আমরা। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সকলের সমানাধিকারই আমাদের দুই গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি। ভারতের কাছে মার্কিন সরকারের আর্জি, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা মাথায় রেখে তারা যেন দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করে।’

বিল পাসের পরেরদিন বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দেয়া ওই পরামর্শ কার্যত ভারতের উদ্দেশে কড়া বার্তা বলে মনে করছে দেশটির কূটনৈতিক মহল।

এর আগে লোকসভায় বিলটি পাসের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আনার প্রস্তাব করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।

মার্কিন কমিশনটির সুপারিশকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজ্যসভায়ও বিলটি পাস করে ভারত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

বিলে বলা হয়েছে- মুসলিম ছাড়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে শরণার্থী হিসেবে হিন্দু, পার্সি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে বিলটিকে ঘিরে আসামসহ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে সহিংসতা সৃষ্টিতে হয়েছে। স্থানীয় বাঙালি এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারি করা হয়েছে।