ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবে চাঙ্গা এশিয়ার শেয়ারবাজার

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

এশিয়ার শেয়ারবাজারে গতকাল চাঙ্গা ভাব দেখা গিয়েছিল। নভেম্বরে অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়ায় ওয়াল স্ট্রিটে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে, গতকাল এরই প্রভাব পড়ে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। যদিও চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা বজায় থাকায় উল্লম্ফন সীমিত ছিল। খবর রয়টার্স।

জাপানের বেঞ্চমার্ক নিক্কেই বাড়ে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জাপানের বাইরে এশিয়া প্যাসিফিকের এমএসআইসি বিস্তৃত সূচক বাড়ে শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ। চীনের সাংহাই কম্পোজিট ও হংকংয়ের হাং সেং স্থিতিশীল ছিল।

মার্কিন পে-রোলের তথ্যে শুক্রবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল ইউরোপের শেয়ারবাজার। তবে গতকাল সেখানে চাঙ্গা ভাব কিছুটা কমেছে। প্যান-ইউরোপের ইউরোস্টক্স ৫০ ফিউচারস কমে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স ফিউচারসের পতন হয় শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং এফটিএসইর কমে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য এবং মার্কিন-চীন বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে সৃষ্ট আশাবাদের ওপর ভর করে গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের উল্লম্ফন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বেঞ্চমার্ক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ দিন শেষ করে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে, যা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জেনারেল মোটরসের শ্রমিকরা ধর্মঘট শেষে কাজে ফেরায় নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এটি শক্তিশালীভাবে নির্দেশ করছে যে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতিটি থমকে দাঁড়ানোর ঝুঁকিতে নেই।

এমইউএফজি ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস রুপকি বলেন, মার্কিন অর্থনীতি এখনো এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা ও বাণিজ্যযুদ্ধ চললেও, বলা যেতে পারে মন্দা মার্কিন অর্থনীতি থেকে বেশ দূরেই রয়েছে।

এদিকে চীন বলেছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে চায়। বেইজিং আশা করছে, তারা শিগগিরই এমন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছবে, যা নিয়ে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট থাকবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর চীনা পণ্যের ওপর আরেক দফা শুল্ক আরোপ করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর আগেই একটি চুক্তি করতে চাইছে চীন।

যদিও হোয়াইট হাউজের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুদলো জানিয়েছেন, ১৫ ডিসেম্বর চীনা পণ্যের ওপর আরেক দফা মার্কিন শুল্কারোপের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা এখনো বহাল রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখতে চান চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা কোথায় যায়।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা আরো বাড়লে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন দেখা দেবে। বিশেষ করে ১৫ ডিসেম্বর যদি ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করেন, তবে বাণিজ্য বিবাদ বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

বাণিজ্যযুদ্ধসংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ‘ট্যারিফ ম্যান’ ট্রাম্পের উচিত ছিল সমঝোতা নিয়ে ইঙ্গিত দেয়া, কিন্তু তিনি উল্টো পথে হাঁটছেন।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো জেনিফার হিলম্যান বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধ অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং ট্রাম্প এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। দেশ দুটি একে অন্যের কয়েক হাজার কোটি ডলারের পণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে। এ যুদ্ধের কারণে দেশ দুটির যেমন নিজের ক্ষতি হচ্ছে, তেমন বড় বিপাকে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি।

এবার যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, তার মধ্যে সেলফোন ও খেলনার মতো বহু ভোগ্যপণ্য রয়েছে। বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শেষ মুহূর্তে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত বাতিল কিংবা আপাতত স্থগিত করা হতে পারে, কেননা অক্টোবরে ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্দেশ্যে একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছিল।