শেখ হাসিনার কারণেই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া: রিজভী

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

ঢাকা : ক্ষমতার মোহে অন্ধ, উন্মত্তের মতো সরকার ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বারবার বাধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকে উপেক্ষা করে চক্রান্তের বদ্ধ চোরাগলিতে হাঁটছে। সরকার ও সরকারপ্রধানের কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্তি পাচ্ছেন না। তারা বারবার বেগম জিয়ার মুক্তিতে বাধা প্রদান করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকেও দেশনেত্রীর জামিন বিষয়ে আদেশ না হওয়া সরকারের সুদূরপ্রসারী ঘটনাবর্তের অংশ। দেশের জনগোষ্ঠীর আস্থার প্রতীক খালেদা জিয়ার জামিনে বারবার বাধা দেয়ায় বাংলাদেশ এখন আশঙ্কা ও আস্থাহীনতায় ভরা এক অচেনা ভূখণ্ড হয়ে উঠছে।’

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়াকে নিয়ে সরকারের সকল চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণ ও দল আজ ঐক্যবদ্ধ ও অগ্রগামী। বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ সচেতন। বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার ও তাদের নামে মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘জুলুমবাজ সরকার হিংস্র আঁচড়ে এদেশের বিরোধী শক্তিকে জর্জরিত করার জন্য সকল শক্তি নিয়োগ করেছে। সরকারের দুর্বিনীত হিংস্রতা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। তারই বহিঃপ্রকাশ গত পরশু মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, শওকত মাহমুদ, এছাড়াও হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নীরব, সরফত আলী সপু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, শাহ মো: আবু জাফর, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক খান, সৈয়দ এহসানুল হুদা, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান তালুকদার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, শাহ নেওয়াজ, সাঈদ মাহমুদ জুয়েল, রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, আশরাফুল ইসলাম রবিন, মো: আল আমিন, মো. রফিকসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মিথ্যা মামলা দায়ের। আমরা এই বানোয়াট মামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ উচ্চ আদালতের ফটক থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও গত পরশু (২৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেফতারের ঘটনারও আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করছি।’

রিজভী বলেন, ‘দুঃশাসনের কালরাতকে আরও অন্ধকারময় করার জন্যই সরকার বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী সরকার একটি বিষয়ে ব্যাপক চর্চা করে, সেটি হলো ‘মিথ্যাচার’। এরা মিথ্যা প্রচারে অক্লান্ত। এরা মিথ্যা মামলা ও কুৎসা রটনাতে অদ্বিতীয়। বিরোধী দলীয় নেতারা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী কোনও কর্মসূচি পালন করলে সেটিকেও এরা রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের দ্বারা নিষ্পেষিত করে উল্টো মিথ্যা প্রচার চালায়। আমরা সেটিরই দৃষ্টান্ত দেখলাম উল্লিখিত মামলা ও গ্রেফতারের মধ্যে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে কখনোই ঔদার্য, ব্যাপক পরিসর, অন্য দলের প্রতি সহিষ্ণুতা, সহাবস্থানের কোনও বোধ নেই। এরা রাষ্ট্রকে নিজেদের সমষ্টিগত সম্পত্তি বলে মনে করে। তাই গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতি, সহমতকে ধ্বংস করে তারা দেশবাসীকে অশান্তির আগুনে দগ্ধিভূত করছে প্রতিনিয়ত। ক্ষমতার মোহে এরা অন্ধের মতো আর কোনও পথের সন্ধান পাচ্ছে না। ক্ষমতার পর্বত চুড়ায় উঠে নামতে পারছে না। তাই জুলুমের নীতিই তাদের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন।’

তিনি বলেন, ‘আইন, আদালত, পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে হুকুমের দাস বানিয়ে মানুষকে বোবা করার চক্রান্ত চলছে। আমাদেরকে এই আওয়ামী নাৎসি দুঃশাসনের তামসিক প্রভাব কাটাতে এই মুহূর্তে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নামতে না পারলে এই অন্ধ, অসহিষ্ণু সরকারের বলি হবে গণতন্ত্রকামী অসংখ্য মানুষ।’

এসময় আটককৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের নামে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যহারের দাবি জানান রিজভী।