হলি আর্টিজান হামলার রায়: আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা

বুধবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ঢাকা : গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে এবং প্রধান গেটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের এখনো হাজির করা হয়নি। তবে কারাগার থেকে রওনা হয়েছে তারা।

এ বিষয়ে র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল করীম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য আমাদের র‍্যাবের পক্ষ থেকে হোন্ডা টহল, গোয়েন্দা বিভাগ, জেনারেল ডিউটিসহ দেড় শতাধিকের মতো ফোর্স রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশসহ সব সংস্থা কাজ করছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গতকাল র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘হলি আর্টিজানের রায় মাথায় রেখে আমরা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছি।’

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন বলেন, ‘রায় উপলক্ষে হামলার আশঙ্কা আমরা একবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আদালতপাড়ায় অনেকের প্রবেশে কড়াকড়িসহ আইডি কার্ড প্রদর্শন করে প্রবেশ করতে হবে।’ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম সারওয়ার খান (জাকির) বলেন, দুপুর ১২টায় আদালতে রায় ঘোষণা করা হবে। তবে এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করা হবে। তাদের উপস্থিতিতে এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপত্র ‘আমাক’ হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ছয়জন কারাগারে আছেন, বাকি দুজন পলাতক।

কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলো জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‍্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগর। এ ছাড়া এ মামলায় শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন পলাতক রয়েছেন।