শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হলে সমাধান হবে না: সন্তু লারমা

বুধবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ঢাকা : পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (ওরফে সন্তু লারমা) বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হলে এখানকার সমস্যা সমাধান হবে না। সুতরাং চুক্তি যাতে বাস্তবায়িত হতে পারে এজন্য সরকার, ব্যক্তিবিশেষ, সংগঠন, দলসহ সবাইকে ভাবা উচিত। চুক্তির ২২ বছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে, কিন্তু চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। সুতরাং চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো যতদিন না বাস্তবায়িত হয়েছে, পার্বত্যাঞ্চলের সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে আমরা দাবি রাখতে পারি না। যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তারাই বলতে পারে না এই অঞ্চলের সমস্যা সমাধান হয়েছে।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটির সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ৬ষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমারা (ওরফে সন্তু লারমা), চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা প্রমূখ।

সন্তু লারমা বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি খুব জটিল একটি বিষয়। ভূমির সাথে আরো পার্বত্যাঞ্চলের অনেক বিষয় জড়িয়ে আছে। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিষয়ে চেষ্টা বা প্রক্রিয়ায় আছি। কি হবে না হবে এই মুহূর্তে বলাটা তো কঠিন। কারণ ভূমি জটিলতা নিয়ে সবকিছু জড়িত, এখানকার সাধারণ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন এবং এখানকার মানুষের জীবনধারা জড়িয়ে আছে।

পার্বত্যাঞ্চলের যে ভূমি ব্যবস্থাপনা আছে, সেটি এখনো জেলা পরিষদে হস্তান্তর হয়নি। দীর্ঘ ২২ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলের ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদে হস্তান্তর হয়নি। এখানে অনেক অনেক জটিলতা থেকে গেছে। তবুও ভূমি কমিশন চেষ্টা করবে এই জটিলতার মধ্যেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কিভাবে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সমাধান দেয়া যেতে পারে।

তিনি জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন করতে গেলে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। একটি হলো, পার্বত্যাঞ্চলের বসবাসরত স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। আরেকটি হলো, চেয়ারম্যান এবং সদস্যেদের নির্বাচনী বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং জেলা পরিষদের নির্বাচনের পর আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটি হচ্ছে চুক্তি বা আইনের বিষয়। তিনি আরো বলেন, আমরা চুক্তি বাস্তবায়ন চাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে ভূমি বিরোধ নিয়ে যে আপত্তি জমা পড়েছে। সেগুলো থেকে বাচাই করে শুনানির কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় ভূমি বিরোধ নিষ্পতি কমিশন নিয়ে বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলে ভূমি বিরোধ নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে। এর জটিলতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ছে। তিনি আশা করেন ন্যায় ও ন্যায্যভাবে সমাধান দিতে পারবো এবং আমরা চেষ্টা করছি শুনানিতে পৌছাতে। তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক পরিষদ যে বিধিমালা দিয়েছে এটি চলমান রয়েছে মন্ত্রণালয়ের সরকারের কোন একটি বিশেষ স্থানে। তিনি আশা করেন, আঞ্চলিক পরিষদ যে পরামর্শ দিয়েছেন, সে পরামর্শ সরকার গ্রহণ করে কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে এবং আমরা ন্যায্য সমাধান দিতে পারবো বলে তিনি আশা করেন।

পার্বত্য চুক্তি এবং সম্প্রতি রাজস্থলীতে হত্যাকান্ডে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (ওরফে সন্তু লারমা) জঙ্গলে ছিলেন, ভারতের রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন।

এই দুই জটিল প্রক্রিয়ায় যদি শেখ হাসিনার আহবানে সমাধান হতে পারে তাহলে পার্বত্যাঞ্চলে যে একাধিক দল আছে এটি কিছু না। কিন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও দক্ষ হতে হবে। পার্বত্য চুক্তি হল আতপ চাল, জুমের চাল, শাক এবং আট-দশ তরকারির মত একটি ভোজ, আমাকে কেবল শুধু চিকেন বিরিয়ানী এবং তেহেরি দিলে বলবো না চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। এখানে দুই পক্ষ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন হলে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম না সারাদেশের জন্য মঙ্গল হবে।