ভারতীয়দের অনুপ্রবেশ থামছে না, সীমান্তে সতর্কতা

বুধবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ঢাকা : গত কয়েক দিন ধরে চলা ভারতীয়দের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ থামছে না। প্রতিদিনই কোন না কোন সীমান্ত দিয়ে ‘কথিত বাংলাদেশি অ্যাখ্যা’ দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকাচ্ছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

সর্বশেষ বুধবারও (২৭ নভেম্বর) বেনাপোলের গাতীপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে শিশুসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, একজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে বলে দাবি করেছেন ৪৯ বিজিবি কমান্ডিং কর্মকর্তা লে. কর্নেল সেলিম রেজা।

আসামে এনআরসি ইস্যুতে আগেই আশঙ্কা ছিল। নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসিতে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ধারণ করা হচ্ছে, এনআরসিতে আতঙ্কিত হয়েই মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। প্রায় প্রতিদিনই ভারত থেকে মানুষ বাংলাদেশ প্রবেশ করছে। চলতি নভেম্বরেই প্রতিবেশি এই দেশটি থেকে অন্তত ৪ শতাধিক মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। যাদের সবাইকেই আটক করেছে বিজিবি। শুধু ঝিনাইদহের মহেশপুরেরই ৩ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে বিজিবি।

এদিকে অনুপ্রবেশের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে নাকোচ করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কিছুই জানেন না, পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন। তবে দেশে অবৈধ প্রবেশের সরকারি তথ্য তার জানা নেই।

এনআরসিতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে ভারত বা কলকাতার সঙ্গে আলোচনা করা হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এনআরসি আতঙ্ক হবে কেন? ভারত সরকার আমাদের বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে, এনআরসি বিষয়ে বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়বে না, আমরা তাদের এই ওয়াদা বিশ্বাস করি। পত্র-পত্রিকায় দেখছি যে লোক আসছে বা আতঙ্ক ছড়িয়েছে কিন্তু আসলেই আমি জানি না বিষয়টা কি।’

তবে সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় করে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন অন্য কোনও স্থান দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দিবে না। সেই সঙ্গে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তারা নিজেরা টহল দিচ্ছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকারকর্মী রঞ্জিত সুরের অভিযোগ, ‘ভয়াবহ ঘটনা। কর্নাটক সরকার দেশের আইন-সংবিধান সব লঙ্ঘন করেছে। কাউকে এ ভাবে পুশব্যাক করা যায় নাকি! কোনও মামলা নেই ওদের বিরুদ্ধে। পুলিশ কী করে নিশ্চিন্ত হল ওরা বাংলাদেশি? ওরা পশ্চিমবাংলার বাঙালিও হতে পারে। পুলিশকে বাংলাদেশি নির্ধারণের ক্ষমতা কে দিল? কোন আইনে? পুশব্যাকের অর্ডার কে দিল? কোর্টের আদেশ ছাড়া পুশব্যাক কখনওই করা যায় না।’