আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় নিহত ১২

সোমবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে তালেবান হামলায় শতাধিক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির সেন্ট্রাল মায়দান ওয়ার্দাক প্রদেশের সামরিক ঘাঁটিতে সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, প্রথম দিকে সামরিক ঘাঁটিতে এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে গুলি করতে থাকে।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২৬ জন নিহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সালেম আগারখলিল বলেছেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের কাবুলে পাঠানো হয়েছে।

প্রদেশের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসরাত রহিমি জানান, সকাল ৭টার দিকে ওই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ওই সময় মাইদান শাহর সামরিক ঘাঁটির গেটে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

খবরে বলা হয়েছে, সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা হামলা চালিয়েই ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে, যে কৌশল তারা অনেক হামলার ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করে।

রাজধানী কাবুল থেকে ৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই ঘাঁটিতে এমন সময় হামলা চালানো হল যখন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।

আগের দিন রোববারও পার্শ্ববর্তী রাজ্য লোগারে হামলা চালায় তালেবানরা। ওই হামলায় আট পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তালেবানরা হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় অধিক প্রভাব রাখতে এবং সম্ভবত আরও রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই তারা এ কৌশল অবলম্বন করছে।

আফগানিস্তান পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ মার্কিন মহাপরিদর্শকের তথ্য অনুযায়ী তালেবানরা দেশটির অর্ধেক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসনে পতন ঘটে তৎকালীন তালেবান সরকারের। দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ শেষেও তালেবানদের দমাতে না পেরে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

গত বছরের জুলাইয়ে নতুন করে শানি্ত আলোচনা শুরু করে মার্কিন সরকার। এ লক্ষ্যে তারা কয়েকটি দেশে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। কিন্তু তালেবানরা আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সরাসরি বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ তালেবানদের মতে, বর্তমান আফগান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’।