জাবিতে হোটেলে বাসি খাবার বিক্রি : স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী

শনিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পঁচা-বাসি খাবার। যা খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এজন্য বিভিন্ন সময় এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের জরিমানা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না অনিয়ম। ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ। যেগুলোতে প্রতিদিন খাবার খাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী কিন্তু কি খাচ্ছেন তারা এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, উঁচু বটতলা থেকে শুরু করে নিঁচু বটতলা পর্যন্ত রেস্তোরাঁগুলোর অপরিস্কার রান্নাঘরে চলছে রান্না-বান্না। খাবারের প্লেট, গ্লাসও ময়লা পানিতে পরিস্কার করা হচ্ছে। আর রান্না করা খাবারের ওপর মিলছে মাছি, ধূলাবালি ও ময়লা-আর্বজনা। রান্না করা খাবার দিনের পর দিন ফ্রিজে রেখে বিক্রি করছে দোকানদাররা।

জমিয়ে রাখা হয়েছে কয়েকদিনের পুরোনো মাছ ও মাংস রান্না। যেগুলো প্রায় পঁচে গেছে। এসব মাছ মাংস শুকিয়ে পরবর্তীতে বিক্রি করা হচ্ছে মাছ ও মাংস ভর্তা হিসেবে। এছাড়াও অবিক্রিত মাছ-মাংসই গরম করে খাওয়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রান্নার জন্য যে তেল ব্যবহার করা হচ্ছে তাতেও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। মাছ, ডিম, পিয়াজু ভাজা হচ্ছে অনেক দিনের পোড়া তেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মল্লিক কুমার বিশ্বাস বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার। খাবারের কোন মান নেই। কয়েকদিনের পঁচা-বাসি খাবারও খাওয়াচ্ছে। এতে পেটের পীড়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছি।

বাংলা বিভাগের মমিনুর রহমান লাজু বলেন, রেস্তোরাঁগুলোতে রান্না করা হয় অপরিস্কার জায়গায়। বটতলায় খোলা ও পোড়া তেলের রান্না খাওয়ায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছি। এছাড়াও প্রায় পেট ও বুক ব্যথা করে। যেসব খাবার খাই তার কোন মান নেই।

এদিকে কয়েকটি দোকানদারের বিরুদ্ধে পঁচা-বাসি খাবারের পাশাপাশি বাসি গ্রিল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বটতলায় যে কয়েকটি দোকানে গ্রিল বিক্রি হয় তার মধ্যে নূরজাহান রেস্টুরেন্ট অন্যতম। এছাড়াও বাংলার স্বাদ এন্ড রেস্তোরাঁ, উঁচু বটতলার সালামের দোকান, রাজ্জাকের দোকান , নানার দোকান এবং নিঁচু বটতলার শান্তসহ অনেক দোকান-মালিকের বিরুদ্ধে একাধিকবার পঁচা-বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

নূরজাহান রেস্টুরেন্টের দোকানদার ফরমান আলী বলেন, দোকানে পঁচা-বাসি খাবার রাখি না। যা বিক্রি হয় করি। বিক্রি না হলে খাবার ফেলে দেই। কিন্তু ওই দোকানে পঁচা-বাসি গ্রিল ও মাছ-মাংস ভর্তা বিক্রির প্রমাণ রয়েছে। যা দোকারদার ফরমান আলীকে দেখানো হলে তিনি অস্বীকার করেন।

একই অভিযোগে বাংলার স্বাদ এন্ড রেস্তোরাঁর মালিক ইমাম হোসেন, সালামের দোকান ও শান্তর দোকান মালিকের কাছে জানতে চাইলে তারাও অস্বাকীর করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এসব খাবার খেলে ভয়াবহ ক্রনিক রোগ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেল্থ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহমান বলেন, তেলজাতীয় খাবার খেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বমি, মাথাব্যথা হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘদিন এইসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ক্যানসার, আলসার, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিকসহ নানারোগ হতে পারে। অপরিস্কার পঁচা-বাসী ও চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে লিভার ও কিডনির সমস্যাসহ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে।

রেস্তোরাঁগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আ.ফ.ম কামাল উদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ সিকদার মো. জুলকারনাইন ও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. নাজমুল হাসান তালুকদার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, অতিদ্রুত সব হোটেল-রেস্তোরাঁকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।

শিগগিরি পুরো বটতলা এলাকার হোটেলের খাবারের মান নিয়ে কাজ শুরু হবে। আমরা হোটেলের খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে তৎপর রয়েছি। তবে তারাও স্বীকার করেছেন পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশন করা হয় না এসব রেস্তোরাঁগুলোতে।