২ দিনে বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

বুধবার, নভেম্বর ৭, ২০১৮

ঢাকা: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে দুইদিনে সারা দেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতরাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, একদিকে সংলাপের কথা বলা হচ্ছে অন্য্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তারে চলছে চিরুণী অভিযান। এই ধরণের অপকর্ম কেবলমাত্র একটি স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষেই সম্ভব। এটি সরকারের দ্বিমুখী নীতিরই চরম বহি:প্রকাশ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোম ও মঙ্গলবার প্রায় আট শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে দেশব্যাপী গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের একটি তালিকা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল নেতকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর এখনো স্বীকার করছে না।

অবিলম্বে তাকে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি। বংশাল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনকে গ্রেপ্তার করে প্রচন্ড মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল নেতা রিয়াদ হোসেন ও আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল, ওলামা দল নেতা মাওলানা নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ স্বপন, কলাবাগান থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রনি, গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী সালাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, টাঙ্গাইলের বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীসহ ২০ জন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজাসহ ৪ জন, কিশোরগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল হক, ফেনীর দাগনভূঁইয়া থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কাজী ফটিক, নাটোর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা শেষে ফেরার সময়। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খানসহ ৪৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ ৪৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।