একদিন আপনাদেরও আমাদের কাছে আসতে হবে : দুদু

সোমবার, নভেম্বর ৫, ২০১৮

ঢাকা : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একদিন আপনাদেরও আমাদের কাছে আসতে হবে। সেদিন কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ওইদিন আমরা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমকে ফেরত চাইবো।

তিনি বলেন, আজ আমরা বিএনপি নেত্রীর মুক্তির জন্য আপনাদের বলছি। সময় হয়েছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন কথা বলেন।

এসময় শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আপনি তো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবিদার। সংবিধানের কথা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতবার বলেন অন্য কেউ এতো বার বলে না। কিন্তু সংবিধানে আমার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সভা-সমাবেশে নিশ্চিত করা হয়েছে, আপনি তো সেটা মানেন না।

এসময় শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। কীভাবে দেবেন, সেটা আপনারাই ভালো জানেন।

‘সারা দেশে নব্বই হাজারের অধিক যে মামলা হয়েছে, যার আসামি প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ। যারা জেলে রয়েছেন তাদেরকে মুক্তি দেন।’

আসামির কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাকে দাঁড় করানো হবে এমন হুমকি দিয়ে কৃষক তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী গুম অথবা নিখোঁজ। এখন আপনি যদি মনে করেন আপানার শাসনকালের পরে আর কোন শাসনকাল নাই সেটা ভুল করবেন। সে শাসনকাল যখন পরিবর্তন হবে তখন তো আমরা আমাদের নেতাকর্মী যারা গুম, খুন হয়েছে তাদের ফেরত চাইবো। ফেরত যদি না দিতে পারেন আসামির কাঠগড়ায় আপনাকে দাঁড়াতে হবে।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে দুদু বলেন, গ্রেফতার করেছেন, যেটি জামিন যোগ্য মামলা সেটি জামিন তো দেন নাই বরং তাকে রংপুরে নিয়ে আপনার কর্মী বাহিনীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। তার ওপর বন্দি অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে। এগুলা ভালো দৃষ্টান্ত না। এগুলো গণতান্ত্রিক শাসনের সাথে যায় না। এগুলো স্বৈরশাসকের কাজ। আপনি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করেবেন স্বৈরশাসকের কাজ করবেন, দুইটা এক সাথে যায় না।

আলোচনা সভায় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকুমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।