বিএনপির শীর্ষ ৮ নেতার জামিন শুনানি দুই সপ্তাহ পর

রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮

ঢাকা: উস্কানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আট শীর্ষ নেতাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দুই সপ্তাহ পর জামিন শুনানির আদেশ দেন আদালত।

রবিবার (৩ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বিএনপি নেতাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ পর মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে।

গত ১ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ।

ওদিনই (১ অক্টোবর) হাতিরঝিল থানায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও নাশকতার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। পরে সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বিএনপির সাত নেতা। মামলাটির পুলিশ প্রতিবেদন না দেয়া পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। সেই জামিন স্থগিত চেয়ে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড অ্যাভোকেট সুফিয়া খাতুন সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু ও বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মামলায় বলা হয়, বিএনপির এসব নেতার এমন বক্তব্যের পর হাতিরঝিল থানার মগবাজার রেলগেট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জামায়াত, ছাত্রশিবিরের ৭০ থেকে ৮০ জন নেতা–কর্মী জড়ো হন। তারা রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেন। পুলিশ জড়ো হওয়া নেতা–কর্মীদের সড়ক অবরোধ না করতে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা পুলিশকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। সেখানে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি বাস ভাঙচুর করেন। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা লাঠি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মারধর শুরু করেন, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মামলায় বলা হয়, ভাঙচুর করা গাড়িগুলো আত্মরক্ষার্থে দ্রুত চলে যাওয়ায় গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ।