আইসিইউর ভিতরেই নাবালিকাকে গণধর্ষণ

রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দিন দিন বাড়ছে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনা৷ বয়স্ক থেকে শিশু, বিকৃত লালসার শিকার হচ্ছেন সবাই৷ কখনও রাস্তায় আবার কখনও বা চলন্ত বাসে কিংবা কখনও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েও নারীদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে৷ কিন্তু এবার ঘটনাস্থল একেবারেই অন্যরকম৷ ভারতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে। ভর্তি থাকাকালীন গণধর্ষণের শিকার হল এক নাবালিকা৷ এই ঘটনার পর থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে ওই নির্যাতিতা৷

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলির বাসিন্দা ওই নাবালিকার বাবা-মা ছাড়া আর কেউ নেই৷ একদিন বাড়িতে একাই ছিল সে৷ সেই সময় আচমকাই একটি বিষধর সাপ তাকে ছোবল মারে৷ গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায় নাবালিকা৷ বাড়ি ফিরে মেয়েকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা-মা৷ তড়িঘড়ি নাবালিকাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তারা৷ নাবালিকার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাকে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়৷ সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তার৷ আচ্ছন্ন অবস্থাতেই নার্সিংহোমের ওই ওয়ার্ডে ভরতি ছিল নাবালিকা৷ অভিযোগ, সেই সুযোগে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে তাকে ধর্ষণ করা হয়৷ ওই নার্সিংহোমের এক কর্মী এবং আরও চার অজ্ঞাতপরিচয় যুবক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলেই অভিযোগ নাবালিকার৷ ধর্ষণের সময় নাবালিকার চিৎকার শুনে জড়ো হয়ে যান অন্যান্য রোগীরা৷ পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হাসপাতাল ছেড়ে চম্পট দেয় পাঁচ অভিযুক্ত৷

এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে ভুগছে নাবালিকা৷ বাবা-মা ছাড়া অন্য কাউকে দেখলেই ভয় পাচ্ছে সে৷ আপাতত ওই নার্সিংহোমের জেনারেল ওয়ার্ডেই ভর্তি রাখা হয়েছে তাকে৷ এই ঘটনায় পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে৷ নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে৷ তদন্তকারীদের দাবি, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ অভিযুক্ত ওই পাঁচ যুবকেরও খোঁজও শুরু হয়েছে৷ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় কিভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ যদিও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন