রাজবাড়ী-১ পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি, আসন রক্ষায় মরিয়া আ’লীগ

শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজবাড়ী-১ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। জয় পেতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিএনপি।

রাজবাড়ী জেলা সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী ১ আসন।

রাজবাড়ী ১ আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে। ১৯৯৬ সালের পর একবার মাত্র ২০০১ সালে এই আসনে জয়লাভ করেছিল বিএনপি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই শক্ত অবস্থান আসনটিতে। বরাবরই আসনটি দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এছাড়া নৌকা প্রতীক পেতে মাঠে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী মর্জি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নওয়াব আলী।

পাশাপাশি আসনটি পুনরুদ্ধার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ খালেক।

অপরদিকে, প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি মাঠে রয়েছে জাতীয় পার্টি। জাপার মনোনয়োন প্রত্যাশী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু, সমন্বয়কারী আক্তারুজ্জামান হাসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদত হোসেন মিল্টন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ী ১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের শেষে হবে। নির্বাচন কমিশন এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমি যে সকল উন্নয়ন করেছি তাতে আমার বিশ্বাস এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা জরিপের মাধ্যমে যাকেই নৌকা উপহার দেবেন ইনশাআল্লাহ তাকেই আমরা বিজয়ী করবো। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগ সরকার কে ক্ষমতায় আনবে।

বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নওয়াব আলী বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর ডাকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেছি। অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জেলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এই জন্যই আমি আশাবাদী যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা আমার সাথে আছে ও যোগ্যতার কথা চিন্তা করে আমাকে মনোনয়ন দিলে রাজবাড়ী ১ আসনটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে উপহার দিতে পারবো বলে আশাবাদী।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘তিনবার রাজবাড়ী পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং একবার রাজবাড়ী ১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলাম। সেই সময়ে রাজবাড়ী জেলা শহরের যে উন্নয়ন হয়েছে তার ছিটেফোঁটাও এখন হচ্ছে না। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। দলের ক্রান্তিকালে পিছপা হয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল এবারও আমাকেই মনোনয়োন দেবে বলে আমার বিশ্বাস। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে রাজবাড়ী ১ আসনটি পুনরুদ্ধার করবো।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম এ খালেক বলেন, ‘শক্তিশালী একজন প্রার্থী হিসেবে জেলা, উপজেলা, গ্রামেগঞ্জে মিছিল মিটিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের সংগঠিত করছি। অন্য যারা প্রার্থী আছে গ্রামের মানুষ ও নেতাকর্মীদের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। নেতাকর্মীদের দুর্দিনে আমি পাশে আছি থাকবো। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে অন্য কাউকেই মনোনয়ন দেবে না’।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতোমধ্যেই পার্টির প্রেসিডেন্ট পল্লীবন্ধু এএইচএম এরশাদ রাজবাড়ী ১ আসনের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতেই আমি ১ আসনে বিভিন্ন কেন্দ্র কমিটি করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পার্টিকে এমপি উপহার দিতে পারবো’।

জেলা জাতীয় পার্টির সমন্বয়কারী আক্তারুজ্জামান হাসান বলেন, ‘জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। রাজবাড়ীতে পল্লীবন্ধু এরশাদের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের ছোঁয়া আজও লেগে আছে। মনোনয়ন পেলে আমি আসনটি জাতীয় পার্টিকে উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ’।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী ১ আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৭২। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৯ ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৩৩।