আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে : বি. চৌধুরী

শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮

ঢাকা: আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শুক্রবার রাত পৌণে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সংলাপ শেষে বের হয়ে যাবার সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এসময় ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরো বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়।

বৈঠক শেষে বের হয়ে যাবার সময় যুক্তফ্রন্ট নেতা বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি আমাদের কথা ধৈর্যসহকারে শুনেছেন। আমরা আশা করছি নির্বাচনে যাব।

বিকল্পধারার সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তার কথায় সন্তুষ্ঠু। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কালীন সময়ে তফসিল ঘোষণার পর কেউ মন্ত্রী হিসেবে পতাকা ব্যবহার করবেন না। তারা শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিক দাফতরির দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন।

সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিপরীতে যুক্তফ্রন্টের ২১ সদস্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জোট নেতা ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

সংলাপে অংশ নিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বি. চৌধুরীরা গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে প্রবেশ করেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বারিধারার বাসা থেকে গণভবনের উদ্দেশে তারা রওনা হন।

সংলাপে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ২৩ নেতা উপস্থিত রয়েছেন। তারা হলেন, দলনেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।

আর যুক্তফ্রন্টের ২১ নেতা সংলাপে উপস্থিত রয়েছেন। তারা হলেন, দলনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, সহ-সভাপতি মিসেস মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি মাহবুব আলী, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বিএলডিপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, মহাসচিব অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জনদলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনাইটেড মাইনরিটি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার দাস, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, সাবেক এমপি মজহারুল হক শাহ চৌধুরী ও এনডিপি’র মহাসচিব মো. মাযহারুল হোসেইন ঈসা।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। এরপর গণভবনে তাদের শুক্রবার সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ।

একইসঙ্গে গণভবনে নৈশভোজে সাদা ভাত, লাল আটার রুটি, ফুলকপি, সিম, আলু ভাজি, যেকোনো মাছের ঝোল ও মসুরের ডাল রখার জন্য বি. চৌধুরীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।