এসডিজির প্রধানকে দায়িত্ব দেওয়া দূরভিসন্ধিমুলক : রিজভী

সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

ঢাকা : নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের পক্ষে সমতল করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এসডিজি ইউনিটের প্রধানকে দায়িত্ব দেয়া দূরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনারই অংশ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনকে একতরফা করার জন্যই চলছে সরকারের নানা আয়োজন। এমনও কথা শোনা যাচ্ছে-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি ইউনিটের প্রধানকে নাকি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের পক্ষে সমতল করার জন্য। সেজন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বলেছেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর জন্য। এটি এক দূরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনার অংশ। গণতন্ত্রকামী মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর অধীনে কোন সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। শেখ হাসিনা নিজের মত ছাড়া জনমতকে এক পয়সার দাম দেন না। সেজন্য আমরা দেখতে পাচ্ছি-সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে তড়িঘড়ি করে আরপিও-তে ইভিএমের বিধান সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনা কখনোই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে দিবেন না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ক্ষমতার মসনদ থেকে ছিটকে পড়বেন। এই ভয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে জালিয়াতির নির্বাচনেই তিনি উৎসাহী। ইভিএম জালিয়াতির নির্বাচনের প্রমাণিত যন্ত্র। সেইজন্য এই জালিয়াতির যন্ত্রই শেখ হাসিনার একমাত্র ভরসা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটারদের ভোটাধিকারের কবর রচিত হবে। গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানে হবে স্বেচ্ছায় গণতন্ত্রের মৃত্যু ডেকে আনা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে প্রকৃত নির্বাচনী পরিবেশ। বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি।

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পরও হয়রানি ও নির্যাতনের তীব্রতা হ্রাস পায়নি মন্তব্য করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, এখন চলছে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ওপর হানাদারি আক্রমণ। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ তার প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের জানমালের ওপর চলছে সরকারি ক্যাডারদের বেপরোয়া আগ্রাসন।

বিনা অপরাধে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিমনের ওপর আওয়ামী ক্যাডারদের কাপুরুষোচিত শারীরিক আক্রমণের দ্বারা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তার হাত-পা।