প্লে স্টোরের বিনামূল্যের অ্যাপ : ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করে গুগলের সঙ্গে

রবিবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন গোটা বিশ্বকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনেছে। তবে প্রযুক্তির এ দুই অনুষঙ্গের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক রয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দ্বিধাহীনভাবে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ের প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের অজান্তে তথ্য সংগ্রহ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্লে স্টোরের বিনামূল্যের ৮৮ শতাংশ অ্যাপই ব্যবহারকারীর তথ্য গুগলের সঙ্গে শেয়ার করে।

গুগল প্লে স্টোরে ২৬ লাখের বেশি অ্যাপ রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য প্লে স্টোরে ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে বিনামূল্যের নতুন অ্যাপ। এসব অ্যাপের ডাউনলোড ও ভালো ইউজার প্রোফাইল তৈরিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শুরুতেই ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়। তার পরও কৌশলে বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান ও ই-মেইলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব তথ্য উদ্দেশ্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন গুগলের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল প্লে স্টোরের হাজার হাজার বিনামূল্যের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ শিশুদের ওপর নজরদারি এবং তাদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ছাড় দিচ্ছে না। বিনামূল্যের সংবাদ অ্যাপ বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

গুগলের এক মুখপাত্র বলেন, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে প্লে স্টোরের বেশকিছু অ্যাপের সাধারণ ফাংশন ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্লে স্টোর সেবার জন্য আমাদের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। সে নীতিমালা অনুসরণ করে একটি অ্যাপ প্লে স্টোরে জায়গা করে নিতে পারে। কোনো অ্যাপ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ভঙ্গ করলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। গুগল ও গুগল প্লে স্টোরের জন্য আমাদের নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ডেভেলপার ও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ গ্রাহকের কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যবহারকারীদের তথ্য কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সংগ্রহের আগে অনুমতি নেয়ার কথাও সেখানে বলা আছে।

গুগলই শুধু নয়, বিভিন্ন সেবা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করছে এমন আরো অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এ তালিকায় রয়েছে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকও।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ অ্যাপ ফেসবুকের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ার করছে। এছাড়া আরো অসংখ্য অ্যাপ টুইটার, ভেরাইজন, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তথ্য শেয়ার করছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুধু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে কাজে লাগানো হচ্ছে না, বড় অংকের ব্যবসায় সুবিধা নিতে এসব তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিময়ের অভিযোগও রয়েছে।

গত জুনে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের সঙ্গে গ্রাহক তথ্য বিনিময়ের চুক্তি রয়েছে ফেসবুকের। শুধু তাই নয়, ফেসবুকের সঙ্গে অন্তত ৬০টি ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ১০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুক তথ্য বিনিময় চুক্তিতে আবদ্ধ আছে। এতে সম্মতি ছাড়াই ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যের সঙ্গে তাদের বন্ধুদের তথ্যও পাচ্ছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, ধর্ম ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। অধিকাংশ চুক্তি এখনো বলবৎ আছে। হুয়াওয়ে বাদে আরো তিনটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য বিনিময় চুক্তি থাকার কথা বলা হয়েছে। কোম্পানি তিনটি হলো— লেনোভো, অপো ও টিসিএল।

গুগল-ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ বেশ পুরনো। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অজুহাতে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠান দুটি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের মাধ্যমে ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য বেহাতের ঘটনা ঘটেছে। এর পরই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। গত মে মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেনারেল ডাটা প্রটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) আইন কার্যকর করেছে।