গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, দখলের চেষ্টা

শুক্রবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

ঢাকা : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাছ ও ফল চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের পর এবার তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মালিকানাধীন পিএইচএ ভবনটি দখলের চেষ্টা করেছে কটন টেক্সটাইল ক্রাফট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে দখলের চেষ্টাকারীরা পিএইচএ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আশুলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ঢুকে নিজেদের জায়গা দাবি করে গাছ কাটতে শুরু করে কটন টেক্সটাইল ক্রাফট লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ। গাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে দখলকারীদের হামলায় আহত হয় র্যাবের গুলিতে পা হারানো সেই লিমন হোসেন। তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। গুরুতর অবস্থায় তাকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কলেজে পড়া অবস্থায় ঝালকাঠির সাটুরিয়া গ্রামের আলোচিত লিমন হোসেনকে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ আটক করেছিল র্যাব। সে সময় গুলিতে তার একটি পা হারাতে হয়।
কটন টেক্সটাইল ক্রাফট লিমিটেডের মালিক রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা ও মির্জানগর এলাকার দ্য কটন টেক্সটাইল মিলের চেয়ারম্যান কাজী মহিবুর রব এর আগে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম শিশিরকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে আরও ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এদিকে আরেক মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসিরুদ্দিন পিএইচএ ভবনের প্রবেশপথের ১৬ শতাংশ জায়গা নিজেদের দাবি করে একটি মামলা করেন। পরে তিনি আজ সকাল থেকেই সেই জমি দখলের চেষ্টা করেন।

নাসিরুদ্দিনের পক্ষে অনেক শ্রমিককে পিএইচএ ভবনের প্রবেশের রাস্তা কাটতে দেখা যায়। পরে সেখানকার সিকিউরিটি পোস্টের ভবনটিও ভেঙে ফেলতে দেখা গেছে। এর আগে আশুলিয়া থানায় ডা, জাফরুলাহ চৌধুরীসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন নাসির উদ্দিন।
অন্যদিকে নিজের জমি দাবি করে গণস্বাস্থ্যের অভ্যন্তরে ১৬৬ শতাংশ জায়গা দখল করে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকার আমিনুল ইসলাম। ট্রাকবোঝাই করে মাটি ভরাট করতেও দেখা যায় শ্রমিকদের।
এ নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, চুরির অভিযোগে গণস্বাস্থ্যেকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরপর পাঁচটি মামলা করা হলো আশুলিয়া থানায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বশেষ মামলাটি করেন কাজী রব। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করে আসামিরা চাঁদা দাবি করেন এবং না পেয়ে পুকুরে থাকা মাছ চুরি করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দীপু জানান, মামলার আসামিদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে, তদন্ত চলছে।
গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন জানান, পিএইচএ ভবন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তা কেটে অবৈধভাবে গণস্বাস্থ্যের জায়গা দখল করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে কী আর বলবো। কিছুই বলার নেই। এভাবে একটির পর একটি মামলা করা হচ্ছে। একটি মামলায় জামিন নিতে না নিতেই আরেকটি মামলা হচ্ছে।
দেলোয়ার হোসেন জানান, বহুতল পিএইচএ ভবনটিতে রয়েছে বিশাল মিলনায়তন ও ডরমেটরি। যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক বহু সম্মেলন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। হামলাকারীরা পিএইচএ ভবনের কম্পিউটার, টিভি, মনিটর, রাউটার, মাইক্রোফোন, জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে।
গত মঙ্গলবার তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেডের কারখানায় একযোগে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করে দেয়া হয় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিকেলস এন্টিবায়োটিক ইউনিট।