বেনামে স্টুডিও ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিলেন কর্মকর্তারা

বুধবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

ঢাকা: কক্সবাজারের কলাতলীর স্টুডিও ফ্ল্যাট বেনামে বরাদ্দ নিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ জন্য বরাদ্দপত্রের কপি নিজেদের আয়ত্তে রেখেছেন তারা। বরাদ্দপত্র ইস্যুর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার পরখ করলেই এ তথ্যের সত্যতা মেলে। শুধু তাই নয়, কয়েক জন কর্মকর্তা নিয়মিত বরাদ্দ পত্রের বিপরীতে মাসিক কিস্তি পরিশোধ করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্ল্যাট প্রকল্পের নির্মাণ, বরাদ্দসহ বিভিন্ন কাজে চট্টগ্রাম বিভাগের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই অফিসে কর্মরত বিশেষ এলাকার এক কর্মকর্তা ওই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। মন্ত্রীর দপ্তরের দোহাই দিয়ে চলছে ওই সিন্ডিকেট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পলাশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম বিভাগের অফিসটি দেখভাল করেন। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব কর্মকর্তা- কর্মচারীর অনিয়মের বিষয়টি জানিয়ে গত ১১ই সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন মো. হীরা নামের এক ভুক্তভোগী।

আবেদনে তিনি জানান, কর্মকর্তারা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম অফিসে অনেক দিন ধরে কর্মরত থাকায় দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার কলাতলি সরকারি জমিতে ৪৬৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৭৫০ বর্গফুট। গ্যারেজ বাদে প্রতি ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এ টাকা কিস্তিতে তিন মাস পর পর এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭০ টাকা করে পরিশোধ করলেই হবে।

প্রতি বছরের ডিসেম্বর, মার্চ, জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। চার বছরের মধ্যে ফ্ল্যাটের পুরো অর্থ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, কলাতলির ৪৬৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখন শেষ হওয়ার পথে। ডিসেম্বরে ফ্ল্যাটের বরাদ্দ গ্রহীতাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলীর অর্ধ শতাধিক ফ্ল্যাটের এখন বেনামে মালিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরির বরাদ্দ গ্রহীতা মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, অন্যান্য কোটায় নিখিল কুমার চাকমা, ব্যবসায়ী কোটায় মো. তৌহিদুল আলম, সংরক্ষিত কোটায় মোহাম্মদ মীর মিজারুল কায়েস, মো. ইসমাইল হোসাইন, মাহমুদুল হক, শিরিন রুখসানা, ফিরোজ আহমদ ও নুজহাত হাসিনাসহ অনেকের ফ্ল্যাট বরাদ্দপত্র কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ছাড়া হালিশহর হাউজিং এস্টেটের জি ব্লকে (৩য় পর্যায়) ২৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ফিরোজ আহমদ, নিলুফার বেগম ও আব্দুর রাফে খান চৌধুরীসহ অনেকের ফ্ল্যাট বরাদ্দপত্র জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি এজন্য কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। ম:জ: