পুঁজিবাজার থেকে ২০০ কোটি টাকা তুলবে আমান টেক্স

শনিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৮

ঢাকা: ব্যাংক ঋণের সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে না গিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে এসেছি। পুঁজিবাজার থেকে ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ব্যবসার সম্প্রসারণ ও ঋণ পরিশোধ করা হবে।

রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের গ্রান্ড বলরুমে আমান টেক্স লিমিটেড এর রোড শো অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে আসছে। এই পদ্ধতি পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের কাছে কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে এই রোড শো’র আয়োজন করা হয়।

আমান টেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংক ঋণ নিতে গেলে সব মিলিয়ে সুদের হার ২০ শতাংশের মতো দাঁড়ায়। সুদের হার বেশি হওয়ায় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবসা করতে পারছে না। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রুপের আরও কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত আছে। সেটির অবস্থা দেখলে বুঝা যায় আমান টেক্সের সম্ভাবনা কতটুকু। পুঁজিবাজারে আসলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ব্যবসা করা যায়। এছাড়া আমান গ্রুপ সব সময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ চিন্তা করে সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ভালো মুনাফা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে তার ইতিহাস দেখা উচিত। আমান গ্রুপের ইতিহাস কয়েক বছরের নয়, কয়েক যুগের। ১৯৬০ সালে আমার বাবা ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তীতে আমি ১৯৮৪ সালে বাবার ব্যবসায় যোগদান করি। সিমেন্ট দিয়ে আমার ব্যবসার হাতে খড়ি। ২০০৫ সালে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করি। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে আমান ইকোনমিক জোনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর গ্রুপের কোম্পানি আমান ফিড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এবার আমান টেক্স তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে।

তিনি জানান, আমান টেক্স উত্তোলিত অর্থ থেকে মেশিনারিজ কিনতে খরচ করবে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ভবন নির্মাণ করতে ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ঋণ পরিশোধ করবে ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিয়ে। বাকি ৭ কোটি ৩ লাখ টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের আমান টেক্সে ২৯৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার নিট সম্পদ রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪ টাকা ৩৪ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৬৪ পয়সা।

কোম্পানির উপদেষ্টা এবং আইসিবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইফতেফার-উজ-জামান বলেন, চাকুরী জীবনে বহু শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছি। কিন্তু আমান টেক্সের মতো এতো সুন্দর ও স্বচ্ছ কোম্পানি দেখিনি। আমার দেখা যত টেক্সটাইল রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের আমান টেক্স। তাই এ কোম্পানিতে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ভালো করবে।

কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট।

আইসিবি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের সিইও সোহেল রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক বেশ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এ খাতের সম্ভাবনা রয়েছে বেশ। এর ধারাবাহিকতায় আমানটেক্স ভালো করবে বলে আশা করছি। যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সুফল ভোগ করবে।

লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের সিইও হাসান জাবেদ চৌধুরী বলেন, টেক্সটাইল সেক্টর বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আর এ কারণে দেশের পন্য বিদেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নাম করেছে। এর ধারাবাহিকতায় আমান টেক্সের ভবিষ্যতে সার্বজনীন উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে। কোম্পানিটির সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে কোম্পানিটি তার ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ভালো রিটার্ন দিতে পারবে বলে আশা করছি।