‘ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সরকারের পতন হবে’

শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘সময় কম , অল্প সময়ের মধ্যে এই সরকারের বাঁধ ভাঙতে হইবে। মাঠে নামতে হবে, যাতে সরকার বাধ্য হয়ে আলোচনায় বসে।’

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকার মনে করেছিল, খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করলে বিএনপি খন্ড-বিখন্ড হয়ে যাবে। বর্তমান বিএনপি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গঠন করার পর থেকে সরকারকে বিচলিত দেখতে পাচ্ছেন উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়ে তারা এটা প্রমাণ করেছেন তারা ভয় পান। এই ঐক্যের মাধ্যমে আমরা যে সঠিক কাজ করেছি সরকারের সমালোচনা শুনেই বুঝতে হবে, নাহলে এত সমালোচনা করতে হতো না। এত অশালীন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে প্রমান হয়ে গেছে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটে পরাজিত হবে।’

দেশের মানুষের মধ্যে একটা আশা তৈরি হয়েছে, এমন দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘আজকে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ একটাই কথা বলে, ঐক্য হয়ে গেছে। মনে একটা আশা তৈরি হয়েছে। একটা আশার আলো দেখতে পারছে দেশের মানুষ। নিজেদের মধ্যে একটা আস্থা ফিরে পেয়েছে মানুষ। মানুষ একটা আশা দেখছে যে, আগামী নির্বাচনে নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবে ‘

এককভাবে নির্বাচন করতে চায় সরকার এমন অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় ,বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রীও জিততে পারবে না এবং তাই হবে। এই ভয়ে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় না। আর তিন মাসও নাই, কিন্তু সরকারের আচরণ দেখে বুঝা যায় তারা আজকে কতটা ভীত। সরকারের উচিত ছিল নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। কিন্তু তারা উল্টো প্রমাণ করেছেন নির্বাচনের পরিবেশের দরকার নাই, একক নির্বাচন তারা করতে চান। শুধু এই লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। সরকারই ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবেশ নষ্ট করছে।’

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন প্রশ্ন তুলে মওদুদ বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার গায়েবি মামলা দিয়েছে। ঘটনা ঘটেনি, মামলা দিয়ে রেখেছে। এক একটি মামলায় ৪০০-৫০০ আসামি। বিভিন্ন জেলা থেকে আজকে নেতাকর্মীদের আগাম জামিনের জন্য আসতে হচ্ছে। সাড়ে ৩ লাখ আসামি করেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। এটা কি নির্বাচনের পরিবেশ? ভুতুড়ে মামলা করে সব নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে।’

টেলিভিশনে শুধু উন্নয়নের গান গাওয়া যাবে এমন দাবি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে তারা আজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এইটা সরাসরি সংবাদ মাধ্যমে হস্তক্ষেপ। সম্প্রচার আইন করা হয়েছে নির্বাচনের আগে সরকারের সমালোচনা যাতে না করতে পারে। শুধু উন্নয়নের গান গাওয়া যাবে, কোনও সমালোচনা করা যাবে না।’

সরকারের জনপ্রিয়তা নীচে নেমে গেছে এমন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের আতে ঘাঁ লেগেছে, সরকারের পরাজয় হবে সামনে। সিলেটে জনসভার জন্য পরশু দিন অনুমতি দেওয়া হলো আবার নিয়ে নেয়া হলে। এতে প্রমাণিত সরকার জনপ্রিয়তায় কত নীচে নেমে গেছে। জনগণ তাদের সঙ্গে নাই এটাই তারা বারবার প্রমাণ করছে।’মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এই ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সরকারের পরাজয় হবে।’

বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না এমন উল্লেখ করে মওদুড আরও বলেন, ‘আমরা আগামীতে প্রমাণ করবো দেশের মানুষ বিএনপিকে পছন্দ করে। একটি কঠিন কাজ একটি স্বৈরাচার সরকারকে হটানো। তারাই আজকে বলছে সরকার ক্ষমতায় না থাকলে ৩ লাখ লোক মারা যাবে। আপনার যদি এতই ভালো কাজ করে থাকেন তাহলে ভয় কিসের? তারা এত অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি করেছে এজন্য তারা ভয় পাচ্ছে। তবে আমি বলে রাখতে চাই, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না, দেশের মানুষ যদি কিছু করে আর কি।’