বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব হ্রাসে অর্থনীতিতে তারল্য যোগের সিদ্ধান্ত চীনের

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার কমিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন এ নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার (৭৫ হাজার কোটি ইউয়ান) যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সহায়তামূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও সোমবার চীনের শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন লক্ষ করা গেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ান।

বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং ও রফতানির আউটলুক এখন হুমকির মুখে। এ অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির প্রবৃদ্ধির ওপর ক্রমে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় চলতি বছর চতুর্থবারের মতো ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার কমিয়েছে পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি)। বর্তমানে চীনের বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যাংকগুলোর জন্য যা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বাধ্যতামূলক অর্থ জমা রাখার হার কমলে পারস্পরিক এবং গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাতে আরো বেশি অর্থ থাকবে।

পিবিওসির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার ১ শতাংশ কমে যাবে। এতে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের জন্য অর্থনীতিতে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়ের সক্ষমতা তৈরি হবে চীনের ব্যাংকগুলোর। এর মধ্যে ৪৫ হাজার কোটি ইউয়ান (সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলার) ম্যাচিউর হতে যাওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে। বাদবাকি ৭৫ হাজার কোটি ইউয়ান ঋণ প্রদানের জন্য বাজারে সরবরাহ করা হবে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের কারণে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক আস্থা যেমন কমছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রভাবে চীনে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে এবং বছরের প্রথমার্ধে রফতানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে। সোমবার সেবা খাত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে এ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা কমেছে। দেশটির প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাতের ভূমিকা খুবই জোরালো।

কাইজিন/মার্কিট সেবা খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সটি (পিএমআই) সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৫৩ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সোমবার প্রকাশিত জরিপ ফলাফলে দেখা গেছে, নতুন ব্যবসায়িক ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির কারণেই সার্বিকভাবে খাতটি সম্প্রসারিত হয়েছে। সেবা খাতের শক্তিশালী অবস্থা মার্কিন শুল্কের কারণে কোণঠাসা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের চাপ কিছুটা হলেও হালকা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মোট ১৫ মাস সম্প্রসারণের পর সেপ্টেম্বরে চীনের শিল্প-কারখানাগুলোর কার্যক্রম কিছুটা কমে গেছে। এর ওপর রফতানি ক্রয়াদেশ গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে হ্রাস পেয়েছে।

সেবা খাতের ওপর সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে তা ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। এ সময় সার্বিক অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান অর্ধেকেরও কিছুটা বেশি ছিল।

তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সেপ্টেম্বরে সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাবে।

সেবা খাত সম্প্রসারণের মধ্যে থাকলেও মূলত সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে পিবিওসি নগদ জমার হার কমিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্র ধরে চীনের শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে, কমেছে মুদ্রার মান এবং এগুলোর সবই চীনের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। ডিবিএসের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চলমান মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ চীনের প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি প্রতিরোধ করতে হলে মুদ্রানীতি শিথিল করতে হবে।’

অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও সোমবার চীনের শেয়ারবাজারে দরপতন লক্ষ করা যায়। টানা এক সপ্তাহ ছুটির পর গতকাল লেনদেনের শুরুতেই চীনের ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারসূচক সিএসআই-৩০০ সাড়ে ৩ শতাংশ হ্রাস পায় এবং প্রধান শেয়ারসূচক সাংহাই কম্পোজিট ২ দশমিক ৯ শতাংশ হারায়। প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির সূচক চাইনেক্সট হারিয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

চীনের শেয়ারবাজারে দরপতনের সূত্র ধরে জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বিত শেয়ারসূচক এমএসসিআই দশমিক ৯ শতাংশ হারিয়েছে।