রেকর্ড ৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি গত মাসে

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রফতানি আয় ৯৯৪ কোটি ডলার

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রফতানি খাতে দেশের আয় হয়েছে ৯৯৪ কোটি ৬ লাখ ডলার। এ তিন মাসে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৩৩ কোটি ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৬৬ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

একক মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৩১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ হিসাবে গত মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে একক মাসভিত্তিক হিসাবে রফতানি আয়ে এত বেশি প্রবৃদ্ধি হয়নি।

প্রাইমারি ও উৎপাদিত পণ্য— এ দুই ভাগে রফতানি আয়ের মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। তিন মাসের উপাত্তে দেখা যায়, তিন মাসে উৎপাদিত পণ্যে রফতানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর প্রাথমিক পণ্যে আয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

প্রাইমারি পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও তাজা মাছ এবং কৃষি। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে হিমায়িত ও তাজা মাছ রফতানিবাবদ আয় কমেছে ১৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। হিমায়িত ও তাজা মাছ থেকে রফতানি আয় কমলেও কৃষিপণ্যে আয় ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, ফার্নিচার ও প্রকৌশল পণ্য। তিন মাসে প্লাস্টিক খাতে রফতানি আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের আয় কমেছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে ওভেন ও নিট পণ্যে আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে ওভেন পণ্যের আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। নিট পণ্যের আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যে রফতানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, এমন পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম বাই প্রডাক্ট ৮০৫ দশমিক ৯৪, সিরামিক ২৭১ দশমিক ৮৫ ও নির্মাণসামগ্রী ১০৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানির খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানি আয়ের ৮২ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এ ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।