ঘুষের কোটি টাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন সিএবির কর্মচারী

রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮

ঢাকা: কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন সিভিল অ্যাভিয়েশনের (সিএবি) ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার এক কর্মচারী। তার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের পক্ষে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রীর দপ্তরে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেন মো. শফিকুর রহমান নামে এক ঠিকাদার। সেটি বর্তমানে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন জাহাঙ্গীর আলম। কাজ না পাওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। কিন্তু তা না দিয়ে ওই কর্মচারী ছয় মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে রয়েছেন। আর ঘুষের পুরো টাকা পাচার করেছেন কানাডায়। এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত থাকায় জাহাঙ্গীরকে বিমানবন্দর থেকে সিএবির ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে বদলি করা হয়।

সিএবি সূত্র জানায়, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও দুদককে অভিযোগ তদন্তের জন্য চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। এর পর দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিএবি।

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বিধি অনুযায়ী জাহাঙ্গীরকে একাধিকবার নোটিশও করে সিএবির প্রশাসনিক শাখা। কিন্তু কর্ণপাত করেননি ওই কর্মচারী। অবশেষে তাকে চ‚ড়ান্ত চাকরিচ্যুত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান দপ্তরে সুপারিশ পাঠায় তারা।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সিএবি সদস্য (অর্থ, অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুল হাই বলেন, ‘সিএবির ওই কর্মচারীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ে। তাই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি বর্তমানে দুদকের তদন্তাধীন।’ এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।