Print
প্রচ্ছদ » বিচিত্র
Tue, 28 Jan, 2014

এবার গাছে ফলবে "মাছের" তেল!

বিচিত্র ডেস্ক : মাছের তেল- বস্তুটা যত মজাদার তেমনি স্বাস্থ্যকর। বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে দিতে সক্ষম মাছের তেল। কিন্তু মাছের তেল আহরণ বেশ ঝামেলার একটা ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এতে মাছেরও বংশ নির্বংশ হবার ভয় থাকে। কিন্তু এখন আর এত ঝামেলায় যাওয়ার দরকার হবে না। কারণ এখন গাছে ফলবে মাছের তেল! না, ঠাট্টা নয়। আসলেই শস্য হিসেবে মাছের তেল ফলানো হবে মাঠে। আর এর জন্য ব্যবহার করা হবে জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্থাৎ জিএম শস্য।

কি করে সম্ভব করা হবে এই আপাত অসম্ভব ব্যাপার? মাছের তেল জিনিসটা তো শুধু মাছের শরীরেই তৈরি হয়! এই একই পদার্থ গবেষণার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে শস্যের মাঝে, যে শস্য চাষ করলে তার থেকে মাছের তেল আহরণ করা যাবে। এক ধরণের শ্যাওলার জিন থেকে কাটছাঁট করে তৈরি করা হয়েছে এই তেল উৎপাদনকারী শস্য। কাজে লাগানো হয়েছে ক্যামেলিনা নামের একটি শস্য, যা সাধারণত জ্বালানী বা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই তেল হলো মাছের তেলের একটা সিনথেটিক রূপ, যা থেকে পাওয়া যাবে প্রচুর পরিমানে স্বাস্থ্যকর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই তেল এবং আলঝেইমার্স রোগের আশঙ্কা কমায়।

আগামি তিন বছর ধরে ব্রিটেনে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা করা হবে এই শস্য। যদি তা অনুমোদিত হয় তবে ২০২০ সালের মাঝে আমরা বাজারে দেখতে পারি এই “মাছের তেল” শস্য।

জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিএম শস্য হবার কারণে মানুষের মনে এই শস্য নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট দ্বিধা এবং সংশয়। অনেকেই এর বিপক্ষে। এই শস্য থেকে কি ধরণের পদার্থ পাওয়া যাবে? এতে কি কোনো ক্ষতিকর টক্সিন তৈরি হবে? প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ফিশ ফার্মে সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে এই শস্য থেকে মানুষের জন্য ভোজ্য তেল আহরণ করা হতে পারে। তখন তা থেকে মানুষের কোনো ক্ষতি হবে কিনা তা নিয়েই রয়েছে আশঙ্কা।