Print
প্রচ্ছদ » পরিবেশ
Tue, 28 Jan, 2014

পানি বিশুদ্ধ করতে ব্যবহার করা যাবে মাশরুম!

ঢাকা : পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু দূষিত পানির অপর নাম মরণ। কারণ এই পানি খাওয়া বা ব্যক্তিগত ব্যবহারে হতে পারে মারাত্মক সব রোগ। দূষিত পানিতে বাসা বাঁধতে পারে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী পোকামাকড়। শুধু মানুষ নয়, অন্যান্য প্রাণীর জন্যেও এই দূষিত পানি ক্ষতিকর। কিন্তু একে দূষণমুক্ত করা যাবে কি করে? পানি বিশুদ্ধকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি বেশ খরুচে। কিন্তু এখন কৃত্রিম পদ্ধতির ওপরে নির্ভর না করে একটি প্রাকৃতিক উপায়েই পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা করা যাবে। কি সেই উপায়? তা হলো মাশরুম!

মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা বলে অবহেলা করার দিন চলে গেছে অনেক আগেই। খাদ্য হিসেবে রয়েছে এর যথেষ্ট কদর। ওরিগনের ওশেন ব্লু প্রজেক্টের অংশ হিসেবে পানি বিশুদ্ধ করতে এই মাশরুম ব্যবহার করা হচ্ছে। ছোট আকৃতির মাশরুম এবং কফির গুঁড়ো এক করে খড়ের সাথে মিশিয়ে রাখা হচ্ছে চটের বস্তায়। এই চটের বস্তা নিয়ে ফেলা হচ্ছে পানির স্রোতের মুখে। এই বস্তার ভেতরে পানি ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হয়ে যাবার সময়ে ফিল্টার হয়ে যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় মাশরুমের শরীরের একটি অংশ “মাইসেলিয়াম” কাজে লাগানো হচ্ছে। এই মাইসেলিয়াম তেল ও কীটনাশকের মতো টক্সিন জাতীয় পদার্থ টেনে নেয়, খেয়ে ফেলে আমাশয়ের ই. কোলাই জাতীয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। হলুদ অয়েস্টার মাশরুম ব্যবহার করে এই ধরণের পানি ফিল্টারিং করার বস্তা ব্যবহার করা হয়ছে উইলিয়ামেট নদীতে। এই ধরণের পদ্ধতিতে তেমন কোনও খরচ হয় না বলে দূষণ কমিয়ে আনতে এটা ভালো ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটা ভালভাবে কাজ করছে কিনা তা জানার জন্য নিয়মিত পানি পরিক্ষাক অরা হবে। তবে এই পদ্ধতির একটাই অসুবিধের দিক দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষ যদি এই মাশরুম উঠিয়ে খেয়ে ফেলে, তবে তাদের শরীরে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক ঢুকে যাবে। এ কারণে এসব বস্তার ওপরে সতর্কতাবাণী লেখা থাকতে হবে।